চার শ্রেণির মানুষের কোনো ভয় নেই

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন তোমার মধ্যে চারটি বস্তু বিদ্যমান থাকে, তখন দুনিয়ার যা কিছুই তোমার থেকে চলে যায় তাতে তোমার কোনো ক্ষতি বা ভয় নেই। তা হলো, আমানত রক্ষা করা, সত্য কথা বলা, উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া এবং খাওয়া-দাওয়ায় সতর্কতা অবলম্বন করা। (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)

সত্য বলা : ইসলামে সত্য কথা বলার ব্যাপারে নানাভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সত্য মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করে জান্নাতে নিয়ে যায়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সাফওয়ান ইবনে সুলাইম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কেউ জিজ্ঞেস করল, মুমিন সাহসহীন বা ভীরু হতে পারে কি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হ্যাঁ। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, মুমিন কৃপণ হতে পারে কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, মুমিন মিথ্যাবাদী হতে পারে কি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, না। (মুয়াত্তা মালেক)

আমানত রক্ষা করা : আমানতের অধ্যায় অনেক বিস্তৃত। আমরা অনেকেই আমানত বলতে বুঝি, একজন আরেকজনের কাছে টাকা-পয়সা বা অন্য কোনো বস্তু আমানত রাখা। অথচ আমানত অনেক ব্যাপক। আমাদের কাছে দুই ধরনের আমানত আছে।

আল্লাহর আমানত। তথা যথাসময়ে নামাজ আদায় করা। আল্লাহপ্রদত্ত সম্পদের যথাযথ জাকাত আদায় করা। হজ-ওমরাহসহ আরও যত ইবাদত রয়েছে এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আমানত। আর মানুষের আমানত হচ্ছে, কারও সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা না করা। কেউ আমার কাছেই সম্পদ আমানত রাখলে তাতে কোনো ধরনের হেরফের না করা। আমার কাছে কেউ কোনো পরামর্শ চাইলে সঠিকভাবে পরামর্শ প্রদান করা। আমি কোনো বিচারিক দায়িত্বে থাকলে সঠিকভাবে বিচারকার্য সম্পাদন করা ইত্যাদি। সেজন্য আমার ওপর আরোপিত যত ধরনের আমানত আছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ আদায় করা।

উত্তম চরিত্র : উত্তম চরিত্রের অধিকারীকে সবাই ভালোবাসে। পরকালে তাদের জন্য রয়েছে অনাবিল সুখ ও শান্তি। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, সচ্চরিত্র ও সদাচারই দাঁড়িপাল্লার মধ্যে সবচেয়ে ভারী হবে। সচ্চরিত্রবান ও সদাচারী ব্যক্তি তার সদাচার ও চারিত্রিক মাধুর্য দ্বারা অবশ্যই রোজাদার ও নামাজির পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। (তিরমিজি)

পানাহারে সতর্ক থাকা : খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা কাম্য। হালাল ছাড়া কোনো কিছুই উপার্জন না করা। যদিও তা পরিমাণে কম হয় এবং নিজের দেহে কোনো হারাম জিনিস প্রবেশ না করানো। কারণ যখন কেউ হারাম ভক্ষণ করে, তখন তার গোশত, রক্ত ইত্যাদি হারাম দ্বারাই বেড়ে ওঠে। হারাম খাদ্য গ্রহণকারী যদি কাবা শরিফেও আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে কেঁদে কেঁদে দোয়া করে তবু মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন না।