প্রত্যন্ত গ্রামে খামার থেকে মিনি চিড়িয়াখানা

মরুভূমির প্রাণী দুম্বা ও বিদেশি ছাগল নিয়ে আবু তাহের মিঞা অ্যাগ্রো ফার্ম নামে দুবছর আগে একটি খামারের যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এখন এটি দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটি দেখতে এবং অবসর সময় কাটাতে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় করছে নানা বয়সী দর্শনার্থী। ছুটির দিনে এখানে ভিড় হয় তুলনামূলক বেশি। এখানে রয়েছে দুম্বা, চিত্রা হরিণ, কচ্ছপ, ইমু পাখি, ময়ূর, তিন পা-ওয়ালা শাহীওয়াল গরু, জার্মান স্পিস কুকুর, বানর, অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু, চীনা হাঁস, ককটেল পাখি, ব্রাহমা মোরগ, বিলেতি ইঁদুরসহ নানা প্রজাতির পশু-পাখি। রয়েছে শিশুদের খেলাধুলার জন্য চরকি, দোলনাসহ বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা। চিড়িয়াখানার ভেতরে রয়েছে পিকনিক স্পটও। প্রায় দুই একর জায়গা নিয়ে এই চিড়িয়াখানাটি গড়ে তুলেছেন পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের উত্তর মরনাই তাহেরপাড়া গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার রইচউদ্দিন মিঞা (বাবলু)।

দর্শনার্থী ভবানীপুর ডিগ্রি কলেজের ইন্টারমিডিয়েট শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শাফিকা জান্নাত বলেন, ‘ উত্তর মরনাই তাহেরপাড়ায় গ্রামীণ এলাকায় চিড়িয়াখানা হয়েছে জানতে পেরে বন্ধুদের নিয়ে ছুটে এসেছি। এখানে ঘুরে ঘুরে চিত্রা হরিণ, ময়ূর, কচ্ছপ, ইমু পাখিসহ অনেক পশু-পাখি দেখেছি এবং বেশ উপভোগ করেছি।’ 

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানহা মুনতাসির জানায়, কচ্ছপ, চিত্রা হরিণ, দুম্বা আর ময়ূর সে বইয়ে ছবি দেখেছে। এখানে এসে চোখ দিয়ে দেখছে।

চিরিরবন্দর ঘুঘুরাতলী থেকে আসা আফছার আলী বলেন, ‘গ্রামীণ পরিবেশে প্রত্যন্ত পল্লীতে মিনি চিড়িয়াখানা দেখতে পেয়ে আমরা অভিভূত। ভবিষ্যতে বন্ধু-বান্ধর ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে পিকনিক করতে এ পার্কে আসব।’

দুই সন্তান সঙ্গে করে নিয়ে আসা বাবা মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ছোট ছোট বাচ্চাদের বিনোদনের তেমন কোন জায়গা না থাকায় প্রায়ই এই মিনি চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসি। এতে ছোট বাচ্চাদের বায়না পুরণ হয়। এখানকার পরিবেশও খুব ভালো।’

দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কের কেয়ারটেকার আক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে আমিসহ ছয় থেকে সাতজন কর্মচারী আছি। প্রথমে এটা দুম্বা ও বিদেশি ছাগলের খামার ছিল। এরপর বিনোদনের জন্য চলতি বছর মার্চে এই জায়গাতে মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক গড়ে তোলা হয়। মানুষের কাছে আকর্ষণ বাড়াতে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কের উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার রইচউদ্দিন মিঞা (বাবলু) বলেন, ‘তুর্কি দুম্বা ও বিদেশি ছাগলের খামার থেকে মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। শখ ছিল মিনি চিড়িয়াখানা করার। শেষ পর্যন্ত মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক তৈরি করেছি। সম্প্রতি বন বিভাগের লাইসেনস সংগ্রহ করেছি। ভবিষ্যতে উটপাখি, গাধাসহ নানা ধরনের পশুপাখি  ও বিরল প্রজাতির প্রাণী সংগ্রহের ইচ্ছা রয়েছে।’