বছর না ঘুরতেই ধসে পড়ছে সড়ক

বছর না যেতেই কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আড়াই কোটি টাকার সড়কের এক পাশ ধসে পড়ছে পুকুরে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে খানাখন্দ। ফলে চলাচল করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। উপজেলার বাঙ্গড্ডা ও পেড়িয়া ইউনিয়নের কাকৈরতলা থেকে চেহরিয়া জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়কের এমন বেহাল দশা।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের শেষের দিকে কাকৈরতলা থেকে চেহরিয়া জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়। এ কাজে ব্যয় ধরা হয় প্রায় আড়াই কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মা-মনি এন্টারপ্রাইজ কাজটি করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সড়কের কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সড়কটির রামেরবাগ অংশে হাফিজুর রহমানের পুকুরের পাশের বিশাল অংশ জুড়ে দেখা দিয়েছে ধস। পুকুরের পাশের পাড় থেকে অনেক নিচে গাইডওয়াল নির্মাণ করায় সড়কটির একপাশ প্রতিনিয়ত পুকুরে ভেঙে পড়ছে। সড়কটির কাকৈরতলা অংশের দুলালের বাড়ির পেছনে একটি বড় ধরনের গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব কারণে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।

অভিযোগ রয়েছে, পুকুরের গাইডওয়াল ৫ ফুট উচ্চতায় করার কথা থাকলেও ৩ ফুট উচ্চতায় কাজসম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া গাইডওয়ালের পাশে মাটি না ফেলায় সড়কের পাশের মাটি নিয়মিত ভেঙে পুকুরে বিলীন হচ্ছে। অন্যদিকে সড়কটির চেহরিয়া অংশে ডা. লুৎফুর রহমানের বাড়ি থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই এসব খানাখন্দে জমছে পানি। এতে দ্রুত সড়ক আরও বেশি নষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহাঙ্গীর আলমকে মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘কাজে গাফিলতির বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা যাতে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করে দেন, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’