রংপুরের পীরগাছায় অন্নদানগর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পে নিয়ম ভেঙে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি ভরাট করে ৫৬৬ মেট্রিক টন গম আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশ থেকেই মাটি তোলার ফলে যে জলাধারের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে মাছ চাষ করেও আয় করেছেন অর্ধ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া সেখান থেকে লাখ লাখ টাকার বালুও বিক্রি করেন তারা। সব মিলিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ও সদ্য বদলি হওয়া পিআইও আব্দুল আজিজ ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে তিন ধরনের ব্যবসা করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ৪৩০টি ঘর নির্মাণের বরাদ্দ হয়। প্রথম অবস্থায় ১১০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের শেষের দিকে বাকি ৩২০টি ঘর নির্মাণ শুরু হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পটির বরাদ্দের পরিমাণ অনুযায়ী ৫ থেকে ৬ ফিট উঁচু করে মাটি ভরাট করা কথা ছিল। কিন্তু তা না করে দেড় থেকে ৩ ফিট উঁচু করা হয়েছে। এসব বিষয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত জুন মাসে তৎকালীন রংপুর জেলা প্রশাসক মো. মোবাশ্বের হাসান তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পরে সেই কমিটি তদন্ত করে আশ্রয়ণ প্রকল্পে কাজ মানসম্মত হচ্ছে না বলে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। সেই মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বদলি হয়ে যান জেলা প্রশাসক। এরপরই ধামাচাপা পড়ে যায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি।
জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের শল্লারবিল এলাকায় প্রায় ১২ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২০টি বাড়ি। বাড়ির নির্মাণকাজ শুরুর আগে সেখানে ৫-৬ ফিট উঁচু করে মাটি ভরাটের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ৫৬৬ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ নেওয়া হয় এবং তা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উত্তোলন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার মাহবুবার রহমান টিটুল অভিযোগ করে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘেঁষেই ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের সাহায্যে বালু উত্তোলন করা হয়। প্রথমে কিছুদিন আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাঠে বালু-মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ৩ থেকে ৪টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে সেখান থেকে প্রায় ২ মাস বালু উত্তোলন করে বেশির ভাগ অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে।
ওই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আকবর আলী বলেন, ওই প্রকল্পে মাটি ভরাটের জন্য যে ৫৬৬ টন গম বরাদ্দ ছিল। স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে মাটি ভরাট করা হলে অনেক শ্রমিকের কিছুদিন সেখানে কর্মসংস্থান হতো। তা না করে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে প্রকল্পের টাকা লুট করা হয়েছে। ড্রেজার মেশিন বসানোর কারণে আশ্রয়ণ প্রকল্প ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাটি ভরাটের নামে তিন ধরনের ব্যবসা করা হয়েছে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনোভাবেই ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। কাবিখার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে শ্রমিক দিয়ে। শ্রমিকরা মজুরি হিসেবে কাবিখার গম পাবেন। কিন্তু সেই নীতিমালাকে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে তোয়াক্কা করা হয়নি।
তবে ইউএনও মো. নাজমুল হক সুমন মনে করেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করায় কোনো অনিয়ম হয়নি। সরকারি কাজে ড্রেজার ব্যবহারে কোনো বাধা নেই।