জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, ‘সব হত্যার বিচার করে আমরা ঘরে ফিরব। যে নবজাতক শিশু জন্ম নেওয়ার আগেই বাবা হারাল, তাকে আমরা কী জবাব দেব।’
গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বরিশাল বিভাগের শহীদ পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস বলেন, ‘আমার অনেক বোন আছেন, যারা বিয়ের কয়েক দিন পর স্বামী হারিয়েছেন। নবজাতকরা বাবার মুখ দেখেনি। শহীদ বাবার সন্তানরা আজ রক্তাক্ত ভিডিও দেখে বড় হচ্ছে। এ বয়সে তাদের এসব দেখা উচিত নয়।
এই প্রশ্নের উত্তর খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের দিতে হবে।’
সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ‘খুনি হাসিনা সারাজীবন নিজের পরিবারের কথা বলে ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছিলেন। অথচ দুই হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করার সময় তার বুক কাঁপেনি। আজ যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫০ বছর আগের ১৯৭৫ সালের গল্প বলে তিনি ক্ষমতা সুসংহত করেছেন। কিন্তু দুই হাজার মানুষকে খুন করার জবাব তিনি কীভাবে দেবেন? যে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দিয়ে এই হত্যাকা- ঘটেছে, তাদের বাংলাদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।’ তিনি বলেন, ‘কষ্ট ও ব্যথার গল্পগুলো সবাই বলতে পারে না। ক্ষত এত গভীর যে তা কোনো দিনও পূরণ করা সম্ভব নয়। অর্থ বা সম্মানী ভাতা দিয়ে সাহায্য করা সম্ভব হলেও, হারানো মানুষকে ফেরানো যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বরিশালের ৭৯ শহীদ পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। ‘এটা মাত্র শুরু। শহীদ পরিবারের যৌক্তিক চাহিদা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া, পুনর্বাসন, কিংবা সম্মানীর ব্যবস্থা করেও আমরা পাশে থাকব। ইতিমধ্যে তিনটি বিভাগে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বরিশাল চতুর্থ গন্তব্য।’
অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা নতুন কিছু নিয়ে এগোচ্ছি, কিন্তু খুনিদের বিচার ছাড়া এই ক্ষত মেটানো সম্ভব নয়। খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের পুনর্বাসনের পক্ষে কথা বলা মানে ক্ষমতালোভী হওয়ার আরেক উদাহরণ। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।’
এ সময় বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।