সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশ করে আসছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। গত বছরের ৯ মে থেকে শুরু হওয়া দলটির এই বিক্ষোভে সরকারি তহবিল, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তা কর্মীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গত ১৮ মাস ধরে পিটিআইয়ের ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট পাকিস্তান সরকারের ওপর আর্থিক বোঝা চাপিয়েছে। সরকারি সূত্র থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, এসব বিক্ষোভ কর্মসূচির ফলে ২৭০ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬০০ কোটির অধিক।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে পিটিআইয়ের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি সামলাতে ২৭০ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে। পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) এবং ইসলামাবাদে তীব্র বিক্ষোভের কারণে গত ছয় মাসে ব্যয় ১.২ বিলিয়ন রুপিতে উন্নীত হয়েছে। তাছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
বিক্ষোভ প্রাথমিকভাবে রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর এবং ইসলামাবাদকে কেন্দ্র করে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ৩০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর পরিবহন ব্যয় ৯০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে এবং পুলিশের ক্যাটারিং ও পরিবহন সম্পর্কিত ব্যয় প্রায় ১৫০ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে।
বিক্ষোভ সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ ৮০ কোটি রুপি ব্যয়ে তিন হাজার কন্টেইনার ভাড়া নেয়। এদিকে, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি), রেঞ্জার্স এবং সেনা সদস্যদের মোতায়েনের জন্য ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০০ মিলিয়ন রুপি।
এদিকে আজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বড় ধরনের সমাবেশ করেছে পিটিআই, যা সামাল দিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে।
সূত্রের বরাতে জিও নিউজ জানায়, পিটিআইয়ের এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে মোতায়েনের জন্য ৩৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তা কর্মী চাওয়া হয়েছে। এই সমাবেশ কেন্দ্র করে সরকারের প্রায় ৩০০ মিলিয়ন রুপির বেশি ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জিও নিউজ জানায়, দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতায় নিরাপত্তা সামাল দিতে গিয়ে অপরিসীম ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে। এই ধরনের বিক্ষোভ দীর্ঘায়িত হতে থাকলে আর্থিক ক্ষতি অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।