মাকে বাড়ি যাওয়ার কথা জানিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন নাঈম

বনভোজনে যাওয়ার আগে মাকে বলেছিলেন বাড়ি ফিরবেন। ফিরেছেন ঠিকই কিন্তু লাশ হয়ে। ঘটনাটি গাজীপুর ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হোসেন নাঈমের।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) বনভোজনে যাওয়ার পথে গাজীপুরের শ্রীপুরে দ্বিতল বাস বিদ্যুতাড়িত হয়ে মারা যান নাঈম। রাত আড়াইটার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা। তখন থেকে তাকে এক পলক দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন প্রতিবেশী ও বন্ধুরা।

ফতেহপুর গ্রামে ঈদগাহে রবিবার সকালে ছিল শোকার্ত মানুষের ঢল। স্বজন ও প্রতিবেশীরা নাঈমের বাবাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। জবাবে কিছুই বলতে পারছিলেন না তার কলেজ শিক্ষক বাবা মীর মোতাহের হোসেন। মোতাহেরের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে নাঈম ছিলেন দ্বিতীয়। বড় ভাই বাক্প্রতিবন্ধী। তাই নাঈমকে ঘিরেই ছিল পরিবারের অনেক আশা। তবে চোখের সামনে এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে, তা মানতে পারছেন না এই শিক্ষক।

মোজাম্মেল হোসেন নাঈম ফেনীর ফাজিলপুর সাউথ ইস্ট ডিগ্রি কলেজের হিসাববিজ্ঞানের প্রফেসর মোতাহের হোসেন শাহীনের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে নাঈম দ্বিতীয়। শখ ছিল ফটোগ্রাফি করা। স্বপ্ন ছিল দেশসেরা প্রকৌশলী হবার। স্বপ্ন তার অধরা রয়ে গেল। এমন মৃত্যুর জন্য বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন স্বজনরা। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন সবাই। যেন ভবিষ্যতে এমন মৃত্যু কারো না হয়।

নাঈমের চাচাতো বোন সুরভী বলেন, আমরা এ মুহূর্তে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আকস্মিক এমন ঘটনায় পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। এত তাড়াতাড়ি ভাইকে হারাবো কখনো ভাবিনি। নাঈম খুবই নম্র-ভদ্র ও মেধাবী ছিল। 

নাঈমের প্রতিবেশী ফেনী সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছর তাদের বাসায় ভাড়া ছিলাম। আমরা পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকতাম। নাঈমকে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, এত ভদ্র ও বিনয়ী ছিল যা বর্ণনাতীত।

শনিবার সকালে পিকনিকের বাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গাজীপুরের শ্রীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির তিন শিক্ষার্থী নিহত হন। নিহতদের একজন ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ার নাঈম।