তিনি কখনও স্কুল শিক্ষক আবার কখনও মানবিক ইউএনও। দাপ্তরিক কাজের ফাঁকে তিনি ছুটে চলেন এক স্কুল থেকে আরেক স্কুলে। আবার কখনও বিভিন্ন হতদরিদ্র অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। বলা হচ্ছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সারমিনা সাত্তারের কথা।
চলতি বছরের ৩ জুন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেন সারমিনা সাত্তার। যোগদানের পর থেকেই তিনি একজন মানবিক ইউএনও হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
রোদ-বৃষ্টি, শীত কিংবা কুয়াশা উপেক্ষা করে সরকারের উন্নয়নের ধারাকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সেইসাথে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে পাল্টে যাচ্ছে অনেক দৃশ্যপট। ইউএনওর প্রশাসনিক এলাকায় জনস্বার্থ বিরোধী কোনো ঘটনা তার নজরে এলে কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক সরেজমিনে গিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে তা দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করছেন। ইউএনও সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিভিন্ন স্কুলে পাঠদান করিয়ে। দাপ্তরিক কাজের ফাঁকে তিনি শিক্ষকতা করেন।
নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাউকে কিছু না বলেই হঠাৎ স্কুল পরিদর্শনে চলে যান তিনি। এরপর স্কুল প্রধানের অনুমতি নিয়ে ঢুকে পড়েন শ্রেণিকক্ষে। এতে উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন সচেতনভাবে ক্লাস পরিচালনা করে। কারণ যেকোনো সময় ইউএনও চলে আসেন।
আজ সোমবার (২৫ নভেম্বর) উপজেলার মাইজবাগ পাছপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং মাইজবাগ পাছপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নেন ইউএনও। এ সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে একজন পেশারদার শিক্ষকের মতোই মজার সব গল্পের মাধ্যমে পাঠদান করেন। আর শিক্ষার্থীরাও মনোযোগ দিয়ে ইউএনওর ক্লাস করে।
মাইজবাগ পাছপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুস সুলতান, বর্তমান ইউএনও একজন মানবিক মানুষ। তিনি অনেক গুণের অধিকারী, বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়নে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনেই তিনি বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেন, ক্লাস নেন। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন উৎসাহ পাচ্ছে, অভিভাবকরাও খুশি। আর আমরা যারা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক আছি আমাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং শিক্ষাকার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধিতে।
ইউএনও সারমিনা সাত্তার বলেন, ‘আসলে একদিকে সরকারি দায়িত্ব পালন, অন্যদিকে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে আমি স্কুল পরিদর্শন করি। আর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উৎসাহ দিতেই ক্লাস নেই মাঝে মধ্যে। আমি যদি উপজেলার স্কুলগুলোর পড়ালেখার মান ও স্কুলগুলো সুন্দর রাখতে না পারি সে ক্ষেত্রে আমার এই এলাকার মানুষ উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হবে। একটি উপজেলার উন্নতি আসতে পারে কেবল একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বাহিরে কোনো উন্নয়নের সুফল জনগণ ভোগ করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজেও একজন মা। আর এ উপজেলার সকল শিক্ষার্থীরা আমার সন্তানের মতো। কাজেই আমার সন্তানেরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে কি না এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ সেই দায়িত্ব শতভাগ পালন করছে কিনা তা মনিটরিং করা আমার দায়িত্ব বলে মনে করি।
ইউএনও বলেন, মানবিক কাজ করে আমি আত্মতৃপ্তি পাই। শিক্ষার্থীদের পড়াতে ভালো লাগে। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মী হিসেবে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমার একমাত্র লক্ষ্য।