ফেরাউনের স্ত্রী হয়েও যিনি জান্নাতি

পৃথিবীর সবচেয়ে জালেম ও জঘন্য মানুষের একজন ফেরাউন। আবার পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নারীর একজন হলেন ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া বিনতে মুহাজিম। পরকালেও তার মর্যাদা থাকবে সব নারীর ওপরে। জান্নাতের শ্রেষ্ঠ চার নারীর একজন হবেন হজরত আসিয়া। তিনি ইতিহাস প্রসিদ্ধ এক ইমানদীপ্ত নারী। প্রখর বুদ্ধিমত্তা, আভিজাত্য ও অর্থ-সম্পদে ছিলেন অতুলনীয়। ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে মুসা (আ.)-এর লালন-পালনের ব্যবস্থার মূলে ছিলেন তিনি। ফেরাউন শিশু মুসাকে হত্যা করতে চাইলে স্ত্রী আসিয়া তা করতে বারণ করেন। তিনি বলেন, এই শিশুকে আমরা আমাদের সন্তান হিসেবে লালন-পালন করব।

নিজ স্বামীর ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে আল্লাহর প্রতি ইমান আনেন আসিয়া। এ কথা জানতে পেরে আসিয়ার প্রতি ফেরাউন ক্রোধান্বিত হয়। আসিয়ার সঙ্গীদের একে একে হত্যা করে। আসিয়াকে কঠিন শাস্তি দেওয়া শুরু করে ফেরাউন। হাতে ও পায়ে লোহার পেরেক লাগিয়ে অদম্য প্রহার করে। নির্যাতন-নিপীড়নে জীবনের আলো যখন ফুরিয়ে যাচ্ছিল তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর কাছে তিনি বিশেষ দোয়া করেন যে, আল্লাহ যেন জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর তৈরি করেন। এই মহীয়সী নারীর জীবনের শেষ আকাক্সক্ষা আল্লাহর পছন্দ হয়। এতে আল্লাহতায়ালা আসিয়াকে সৃষ্টজগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নারীদের তালিকাভুক্ত করে চিরকালের জন্য সম্মানিত করেন। আসিয়ার আকাক্সক্ষার কথা কোরআনে এসেছে এভাবে, ‘আল্লাহ মুমিনদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর উপমা পেশ করছেন, তিনি বলেন, হে আল্লাহ, আমার জন্য জান্নাতে আপনার কাছে একটি ঘর নির্মাণ করুন, আমাকে ফেরাউন ও তার কার্যাবলি থেকে রক্ষা করুন এবং আমাকে জালেম জনগোষ্ঠী থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা তাহরিম ১১)

ইবনে কাসির (রহ.) বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। জান্নাতে নিজের বাড়িও দেখানো হয় আসিয়াকে। নিজ চোখে বাড়ি দেখে হেসে দেন তিনি। এদিকে চরম নির্যাতনের মধ্যে আসিয়ার মুখে হাসি দেখে ফেরাউনের ক্রোধ আরও বেড়ে যায়। ক্ষোভে ফেরাউন এক প্রকাণ্ড প্রস্তর নিক্ষেপ করে। এরপরই আসিয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আর পৃথিবীবাসীর জন্য রেখে যান ইমানি দৃঢ়তার নমুনা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সৃষ্টিজগতের মধ্যে চারজন নারী শ্রেষ্ঠ। তারা হলেন মরিয়ম বিনতে ইমরান, ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া, খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ ও ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ। (তিরমিজি)