৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী চট্টগ্রামের পটিয়া থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার-বাণিজ্য করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার পটিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, থানার কিছু দালাল ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে পুলিশকে ব্যবহার করে নিরীহ লোকজনকে রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসাচ্ছে। এজাহারে নাম না থাকলেও শত্রুতাবশত দু-একটা মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে তাদের। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকেও মামলা দেওয়াসহ হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মামলার ভয়ে মুখ খুলছে না অনেকেই। পুলিশের এসব কর্মকা- ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে সাধারণ জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। অথচ ছাত্র-জনতার ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের কেউ ধরা পড়েনি। পুলিশ রাঘববোয়ালদের না ধরে চুনোপুঁটি নিয়ে ব্যস্ত। সম্প্রতি পটিয়ায় একাধিক গরু চুরি, ডাকাতি, খুনসহ নানা অপরাধের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক রিদুয়ান সিদ্দিক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র মাহাবুব উল্লাহ, পটিয়া পৌরসভা ছাত্রদল নেতা রেজাউল ইসলাম রাজু, আল জামিয়া আল ইসলামিয়ার ছাত্র তানজিদ, ছাত্রদল নেতা মারুফ আবদুল্লাহ, হাফেজ সাহেদ, তালহা রহমান, হাসান আল বান্না, আজিম মাহবুব, গাজী জোবায়ের, আবু সিদ্দিক প্রমুখ।
ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধে আমাদের প্রতিপক্ষের দু-তিনজন বিএনপি নেতা পুলিশকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে আমিসহ কয়েকজন নিরীহ লোককে আসামি করেছে। সাত-আটজন লোক ছাড়া বাকি আসামিদের নাম পুলিশ ও বিএনপি নেতারা দিয়েছেন বলে মামলার বাদী মো. শাহজাহান আমাকে জানিয়েছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৫ আগস্ট-পরবর্তী যেসব মামলা হয়েছে, সেসব মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, উসকানিদাতা, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, পটিয়া থানাকে দালালমুক্ত করা ইত্যাদি।