দেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংকের (পিএলসি) চট্টগ্রাম সার্কেলে শুধু ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। বছরের পর বছর চেষ্টা করেও বাগে আনা যাচ্ছে না ঋণখেলাপি এসব প্রতিষ্ঠানকে। অনন্যোপায় হয়ে ঋণ আদায়ের কৌশল হিসেবে তাদের ওপর সামাজিক চাপ সৃষ্টি করতে খেলাপিদের তালিকাসংবলিত ব্যানার নিয়ে গতকাল সোমবার রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অগ্রণী ব্যাংকের চট্টগ্রাম সার্কেলে বর্তমানে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছেই খেলাপির পরিমাণ ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা।
শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সাদ-মুসা ফেব্রিকস লিমিটেড (ইউনিট-১ ও ২), মেসার্স জয়নাব ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড, মেসার্স ম্যাক শিপ বিল্ডার্স, সিএসএস করপোরেশন (বিডি) লিমিটেড, ইন্ট্রাকো সিএনজি লিমিটেড, সামান্নাজ সুপার অয়েল, স্টার সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মেসার্স আরাফাত স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ, মেসার্স মিসম্যাক শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রি, মেসার্স সিদ্দিক ট্রেডার্স, মেসার্স এফঅ্যান্ডএফ শিপ রিসাইক্লিং, মেসার্স মাহি ফিশ প্রসেসিং লিমিটেড, ফিনিশ অ্যাপারেলস লিমিটেড, এপিটি ফ্যাশন উইয়ার প্রাইভেট লিমিটেড, শফিক স্টিল, রুবাইয়া ভেজিটেবল, মেসার্স কনসেপশন সি ফুডস লিমিটেড, মেসার্স বাংলাদেশ ইলেকট্রিসিটি মিটার কোম্পানি লিমিটেড, দোভাষ শিপিং লাইনস ও মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ।
এসব ঋণখেলাপির তালিকা সংবলিত ব্যানার হাতে গতকাল সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রাম সার্কেলের বিভিন্ন কার্যালয়ের কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিভিন্ন খেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম ও পরিচালকদের নাম সংবলিত পৃথক পৃথক ব্যানার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ান তারা। পাশাাপাশি মাইকেও এসব ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় তুলে ধরা হয়। ঋণ আদায়ে ব্যাংক ঘোষিত দুই মাসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, ব্যাংকগুলো জনগণের আমানতের টাকা থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে থাকে। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধ না করার কারণে সাধারণ মানুষের আমানতের অর্থ পরিশোধে ব্যাংকগুলো হিমশিম খাচ্ছে। এ খেলাপি ঋণ সংস্কৃতি ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অগ্রণী ব্যাংক, লালদীঘি করপোরেট শাখার কর্মকর্তা শফিক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্যাংকের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের পরও এসব প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধ করছে না। যে কারণে আমরা এ ধরনের ব্যতিক্রমী কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। মূলত এসব শীর্ষ ঋণখেলাপির ওপর সামাজিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণ আদায়ের কৌশল হিসেবে ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।’
এই ব্যাংক কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জনগণের আমানতের বিপরীতে প্রদত্ত ঋণ পরিশোধে খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহার বিষয়টি এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা জনগণের সামনে তুলে ধরতে চাই। যাতে তারা সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি চিন্তা করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে আগ্রহী হয়।’
জানা গেছে, শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ে অগ্রণী ব্যাংক চলতি বছর ২৪ অক্টোবর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।