২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ৭ হাজার ১৭৬ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর গত ১০ মাসে (জানুয়ারি থেকে অক্টোবর) এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫০৫ জন নারী। গতকাল ২৫ নভেম্বর ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন’ বা আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। বাংলাদেশে ১৯৯৭ সাল থেকে প্রতিবছর এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে নারীর ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছে এইচআরএসএস। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে (২০১৯-২৩ সাল পর্যন্ত) কমপক্ষে ১২ হাজার ৫৮৩ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭ হাজার ১৭৬ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২২৫ জনকে ও আত্মহত্যা করেছে ৫১ জন নারী। এ ছাড়া ২ হাজার ৬৩৯ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৯৬ জন, আহত হয়েছে ৩৭৫ জন এবং আত্মহত্যা করেছে ২০ জন নারী। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছে ১ হাজার ৬৩ জন, আহত হয়েছে ৩৬৫ এবং আত্মহত্যা করেছে ২৭৪ জন নারী। অ্যাসিড সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছে ৯ ও গুরুতর আহত হয়েছে ৯৯ জন নারী।
এইচআরএসএসের তথ্য বলছে, ১০ মাসে ১ হাজার ৩০৩ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫০৫ জন, যাদের মধ্যে ২৬১ জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। ১১৮ জন নারী ও কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৪ জনকে, আত্মহত্যা করেছে ১১ জন নারী। ২৮১ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে, এর মধ্যে ১১৫ জন শিশু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫০ জন নারী। এ ছাড়া পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছে ২৬৫ জন, আহত হয়েছে ৬৭ জন এবং আত্মহত্যা করেছে ৯৯ জন নারী। অ্যাসিড সহিংসতার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে ৮ জন নারী।