ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাসহ বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষেকে হয়রানি করার অভিযোগ ওঠেছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) ঈশ্বরগঞ্জে প্রেসক্লাবে এলাকাবাসী এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের মৃগালি গ্রামের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিবেশীদের নামে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, চুরি, ডাকাতি ও ভূমি সংক্রান্ত ১৪ থেকে ১৫টি মামলা দিয়েছে। সর্বশেষ ১৮ নভেম্বর একটি লুটপাট ও ভাঙচুরের মামলা দিয়েছে শহিদুল্লাহ। একের পর এক মামলা দিয়ে এলকাবাসীকে এভাবেই হয়রানি করে আসছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারাসহ আঠারবাড়ী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এখনও শহিদুল্লাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে শহিদুল্লার ভাই আব্দুল জব্বারসহ ১২ সদস্যের একটি দল প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে।
এ সময় উপস্থিত ভুক্তভোগী ইসলাম উদ্দিন তার ওপর চলা শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের কথা বলেতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সম্মেলনে উপস্থিত আরেক ভুক্তভোগী হোসেন তার শরীরের বিভিন্ন স্থানের ক্ষত চিহ্ন সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, ২০১৯ সালে তার ওপর শহিদুল্লাহসহ তার চার ছেলে রাসেল, রুবেল, রিফাত হাসান বাবুল ও তানভির হাসান সাগর মিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন। এখনও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শহিদুল্লাহ ও তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেলে শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।