দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা শহরের ছোট যমুনা নদীর তীরঘেঁষা পশ্চিম গৌরীপাড়া মৌজায় অর্পিত সম্পত্তির ওপর নির্মিত একটি তিনতলা ভবন। ভবনটি সাবেক মন্ত্রী মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ও তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বাবুলের কার্যালয় হিসেবে পরিচিত। ভবনটির ইজারা নিয়েও রয়েছে নানা জটিলতা। সেই ভবনটি রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি ‘বিশেষ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১৯ লাখ টাকার বেশি। আর কাজটির বাস্তবায়ন করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বজলুল হক। সাবেক মন্ত্রীর ডিও লেটারের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা স্বীকার করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ। মন্ত্রীর ডিও লেটারের পাশাপাশি সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সুপারিশের ভিত্তিতে এই কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ছিলেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অসুস্থতাজনিত কারণে ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জানা গেছে, পশ্চিম গৌরীপাড়া মৌজার ছোট যমুনা নদীর তীরঘেঁষা ‘ক’ তফসিলভুক্ত ৪ শতক জায়গা প্রায় আট বছর আগে জনৈক মো. রফিক ইজারা নিয়ে তিনতলা ভবন নির্মাণ করেন। সেই ভবনটিতে নুর আলম চৌধুরী জয়কে ভাড়া দেন রফিক। সেখানে নুর আলম চৌধুরী ডক্টরস ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি ক্লিনিক স্থাপন করেন। পরে কৌশলে ভবনটির ইজারা নিজ নামে করে নেন নুর আলম চৌধুরী। তখন সেখানে চোখ পড়ে সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের। ২০২০ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রয়াত হায়দার আলী শাহ্ দলীয় কার্যালয় নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরেই ভবনটিসহ ছয় শতক জমি বরাদ্দ নেন। ভবনটি লিজ নেওয়ার পর থেকে সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ও তার ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান বাবুলের কার্যালয় হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে। ভবনটির পশ্চিম দিকে চার শতক জায়গা পরিত্যক্ত পড়ে থাকতে দেখে সেটিকে নিজেদের দখলে নিতে নতুন বুদ্ধি বের করে সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ও তার ছোট ভাই বাবুল। জায়গাটি নিজেদের দখলে রাখতে ২০২২ সালের আগস্টের মাঝামাঝি সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করে। পরে উপজেলা প্রশাসনের বাধায় কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই জায়গাটি নিজেদের কবজায় রাখতে মোস্তাফিজুর রহমান পানি উন্নয়ন বোর্ডে একটি ডিও লেটার পাঠান। আর সেই ডিও লেটারের বিপরীতে ২০২৩ সালে দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেন। আর প্রকল্পের নামকরণ করা হয়েছে ফুলবাড়ী শহর রক্ষা প্রকল্প।
সেই প্রকল্পের কাগজপত্র দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে। দেখা গেছে, ভবনটির পাশের মাত্র ৫০ মিটার নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পটিতে ব্যয় করা হয় ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৭ টাকা। কাজটি ২০২৩ সালের ২৫ জুলাই শুরু করে ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি চলতি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ করে।
নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের আপদকালীন জরুরি কাজ বাস্তবায়ন করি। এটা মূলত স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও স্থানীয় এমপির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। যেহেতু স্থানীয় সংসদ সদস্য একটি ডিও লেটার দিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে এটা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হয়।’