বিশ্ব ক্রিকেটের জমজমাট মঞ্চ আইপিএল, যেখানে স্বপ্নেরা পায় নতুন ঠিকানা। মোস্তাফিজুর রহমানের কাটারে পরাস্ত হবেন ব্যাটসম্যানরা। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে খেলবে কলকাতা। এমন স্বপ্ন দেখেছিলেন ভক্তরা। কিন্তু মরুর বুক সৌদি আরবের জেদ্দায় দুই দিনব্যাপী নিলামের মঞ্চে উপেক্ষিত বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। ড্রাফটে লাল-সবুজের ১২ জন ক্রিকেটারের নাম লিখালেও ডাকাই হয়নি অধিকাংশদের।
অতীতের আসরগুলোতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ থাকলেও এবার কেউই দেখায়নি। এর পেছনে রয়েছে অনেকগুলো কারণ। তার মধ্যে আর্থিক কৌশল, এনওসি নিয়ে বিপত্তি এবং নিলামে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সিরিয়াল নাম্বার। এসব কারণেই মূলত এবারের আসরে উপেক্ষিত বাংলাদেশিরা।
নিলামের প্রথমদিন ৮৪ ক্রিকেটারের নাম উঠেছিল। যেখানে ছিলেন না বাংলাদেশের কেউ। দ্বিতীয় দিনের তালিকায় পড়ে গিয়েছিলেন। তাই রাত-দিনভর চর্চা হয়েছিল যে দুটি নাম নিয়ে সেটা হলো মোস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসান। ফিজ গত মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন। ৯ ম্যাচ খেলে ১৪ উইকেট শিকার করেছিলেন। তাই এবারও যে তাকে পেতে দলগুলো ঝাপিয়ে পড়বে এটা ছিল সবার প্রত্যাশা।
এছাড়া কলকাতা হারিয়েছে তাদের চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারকে। তাই এবার অধিনায়ক বিবেচনায় তারা সাকিব আল হাসানকে নিতে পারে এমন প্রত্যাশা ছিল ভক্তদের মনে। তাছাড়া রিশাদ হোসাইন লেগ স্পিনের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও সিদ্ধহস্ত। তাই তাকেও কিনে নিতে পারে কোনো দল এমনটাই ছিল আশা। কিন্তু কাউকেই নেয়নি কোনো দল। এছাড়া তাসকিন আহমেদও ছিলেন আলোচনায়। অথচ নাম উঠেনি তার।
তবে বাংলাদেশি ভক্তরা বিস্মিত হয়েছেন মোস্তাফিজের দল না পাওয়াতে। কেন তিনি দল পেলেন না এ নিয়েও হচ্ছে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা। আসলে তার দল না পাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে তার ভিত্তিমূল্য ও সিরিয়াল নাম্বার।
ফিজের ভিত্তিমূল্য ছিল ২ কোটি রুপি, যা তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সঙ্গে মানানসই। কিন্তু তার সিরিয়াল নাম্বার ছিল ১৮২। নিলামের প্রথম বাংলাদেশির নামই ছিল এটা। ততক্ষণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বাজেট ফুরিয়ে এসেছিল। দলগুলির বা হাতি পেসারদের নিয়ে আগ্রহ থাকলেও ঐ সময়ে শুধুমাত্র এক পেসারের জন্য এত টাকা কেউ খরচ করতে চায়নি। তবে তার সিরিয়ালটা যদি আরেকটু আগে হত তাহলে তাকে হয়তো কেউ না কেউ নিতে আগ্রহ দেখাত। সময় তার নাম ড্রাফটে উঠে আসে। বেশিরভাগ দলই তাদের অর্থ ব্যয় করে ফেলায় মোস্তাফিজের মতো পরীক্ষিত পারফর্মারও উপেক্ষিত থাকেন নিলামে।
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আইপিএলে দল না পাওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে বিসিবির পক্ষ থেকে পুরো মৌসুমের জন্য এনওসি (অনাপত্তিপত্র) না দেওয়া। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের খেলোয়াড়দের থেকে পুরো মৌসুম জুড়ে পারফরম্যান্স আশা করে। গত মৌসুমে মোস্তাফিজ চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে লিগ পর্বে খেললেও প্লে-অফের সময় জাতীয় দলের ব্যস্ততা থাকার কারণে ফিরে আসেন। তাছাড়া বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে ব্যস্ততা এবং সংক্ষিপ্ত আইপিএল অংশগ্রহণের ইতিহাসও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে। এ ধরনের অপ্রতুলতা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আস্থায় চিড় ধরায়। তাই তাকে না নেওয়ার পেছনে এটাও একটা কারণ হতে পারে।