মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় ও ঘৃণিত পাপ হলো শিরক। শিরক ও তাওহিদ পরস্পর বিরোধী। এটি আল্লাহতায়ালার অস্তিত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জস্বরূপ। এ জন্য তিনি শিরক সংক্রান্ত গুনাহ ক্ষমা করবেন না বলে সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তার সঙ্গে শরিক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্নপর্যায়ের পাপ, যাকে তিনি ক্ষমা করতে চান। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে, সে গুরুতর পাপে লিপ্ত হলো।’ (সুরা নিসা ৪৮) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা বলেন, হে বনি আদম! তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ পাপ নিয়েও আমার কাছে আসো এবং আমার সঙ্গে কাউকে শরিক না করো, তাহলে আমিও তোমার নিকট পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমার ডালি নিয়ে আসব।’ (তিরমিজি)
শিরক দুই প্রকার। এক. শিরকে জলি বা বড় শিরক। তা হলো, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে প্রভু বানানো, ইবাদতের জন্য তাকে ডাকার পাশাপাশি অন্য কাউকে ডাকা, অন্য কারও নিকট দোয়া করা, সাহায্য চাওয়া প্রভৃতি। এই শিরক ইমান ধ্বংসকারী এবং এতে লিপ্ত ব্যক্তি মুশরিক হিসেবে গণ্য হয়। দুই. শিরকে খফি বা ছোট শিরক। তা হলো, শরিয়তে নিষিদ্ধ এমন প্রতিটি কাজে লিপ্ত হওয়া, যা বড় শিরকের দিকে প্ররোচিত করে। যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করা, নামাজ ছেড়ে দেওয়া প্রভৃতি। এই শিরক ইমান ধ্বংসকারী বটে, তবে এতে লিপ্ত ব্যক্তি মুশরিক হিসেবে গণ্য হবে না। শিরক না করা বান্দার ওপর আল্লাহর অধিকার। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, ‘একদিন আমি একটি গাধার পিঠে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর পেছনে আরোহণ করলাম। আমার ও তার মাঝে হাওদার হেলানো কাঠ ছাড়া কোনো ব্যবধান ছিল না। এমন সময় তিনি আমাকে বললেন, হে মুয়াজ! তুমি কি জানো, বান্দার ওপর আল্লাহর কী অধিকার? আর আল্লাহর নিকট বান্দার কী অধিকার? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুল ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন, বান্দার ওপর আল্লাহর অধিকার হলো, বান্দা কেবল তারই ইবাদত করবে এবং তার সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না। আর আল্লাহর নিকট বান্দার অধিকার হলো, বান্দা তার সঙ্গে কাউকে শরিক না করলে তিনি তাকে শাস্তি দেবেন না।’ (সহিহ বুখারি) অন্য হাদিসে মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে অসিয়ত করেছেন, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় কিংবা আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ)
শিরকের শাস্তি ভয়াবহ। শিরকে লিপ্ত ব্যক্তিকে ‘মুশরিক’ বলা হয়। মুশরিকের জন্য জান্নাত হারাম। তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন। তার ঠিকানা জাহান্নাম। আর জালেমদের কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা মায়েদা ৭২) হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এমন দুটো বস্তু আছে, যা অপর দুটো বস্তুকে অনিবার্য করে তোলে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! সেই দুটো বস্তু কী? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে মৃত্যুবরণ করেছে, সে জাহান্নামে যাবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম)
শিরক নেক আমল বিনষ্ট করে দেয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আপনাকে এবং আপনার পূর্ববর্তী নবীদের অহির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আপনি যদি শিরক করেন, তবে নির্ঘাত আপনার সমস্ত কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং অবশ্যই আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন।’ (সুরা জুমার ৬৫) আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে শিরকের মতো গর্হিত ও নিকৃষ্ট পাপ থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন। আমিন।