গত কয়েকদিনের সংঘটিত ঘটনাবলিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচনী রোড ম্যাপ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, টিসিবির ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা, কৃষিতে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে নজর দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
গতকাল বুধবার রাতে হেয়ার রোডে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপির পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ফখরুল ইসলাম ছাড়াও ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহ উদ্দিন আহমেদ। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাসান আরিফ, আদিলুর রহমান খান ও মাহফুজ আলম।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বলেছি, আমাদের নির্বাচন জন্য যেটা বেশি প্রয়োজন, সেই সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের রোড ম্যাপ দেওয়া জরুরি। প্রধান উপদেষ্টা আমাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। আমরা বিশ্বাস করি উনারা এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমাদের আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্প্রতিক কালের উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশেষ করে কয়েকদিন ধরে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ইসকন পরিস্থিতি, ছাত্রদের কয়েকটি কলেজের সমস্যা এ বিষয়গুলো নিয়ে দলের যে উদ্বেগ, সেটা প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো। আমরা আশা করেছি, প্রধান উপদেষ্টা তার উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে অতি দ্রুত এসব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ব্যবস্থা করবেন এবং দেশে যেন এমন কোনো অবস্থার সৃষ্টি না হয়, যে অবস্থার মধ্য দিয়ে বিভাজন সৃষ্টি হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন যেটা প্রয়োজন আমরা বলে এসেছি, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে জাতীয় ঐক্য। আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য বিশেষ করে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়ায় অথবা দেশের স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করতে চায়, তাদের প্রতিহত করার জন্য, প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের অবশ্যই একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সামগ্রিকভাবে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি।’
এক ঘণ্টারও অধিক সময়ের এই বৈঠকে দেশের দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ, এলাকাভিত্তিক টিসিবির ট্রাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রি বৃদ্ধি করা, সারা দেশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষিতে সার সরবরাহ, শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত রাখা, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দায়েরকৃত বিএনপিসহ বিরোধী দলের ওপর সব মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘কৃষিতে বিশেষ করে সার বিতরণ ক্ষেত্রে এখনো ফ্যাসিস্টদের দোসররা নিয়ন্ত্রণ করছে। সেগুলো জনগণের পক্ষে যারা আছে, তাদের কাছে নিয়ে আসার কথা বলেছি। সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ যেগুলো আছে, সেগুলোর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে জবরদস্তিমূলক নির্বাচন করে তাদের মতো করে করেছিল। আমরা মনে করি, এসব সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ যেভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে সেভাবে ইউনিয়ন পরিষদগুলোও ভেঙে দিয়ে পরবর্তী নির্বাচনগুলো করা। একইভাবে ট্রেড বডিগুলো ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে এসব ফের সুষ্ঠুভাবে নিয়ে আসার জন্য আমরা বলেছি।’