চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে আইপিএল নিলামে জালিয়াতির অভিযোগ মোদির

আইপিএলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ললিত মোদি চেন্নাই সুপার কিংস ও বিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট এন শ্রীনিবাসনকে নিয়ে বিস্ফোরক কিছু অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মোদি দাবি করেছেন, ২০০৯ সালে আইপিএলের দ্বিতীয় মৌসুমে শ্রীনিবাসন আম্পায়ারিং থেকে শুরু করে নিলামে দুর্নীতি করেছেন, যা ক্রিকেটের জন্য লজ্জাজনক। 

মোদি সরাসরি অভিযোগ করেন চেন্নাই সুপার কিংসের ম্যাচগুলোতে সুবিধাজনক আম্পায়ার নিয়োগ দেওয়া হতো শ্রীনিবাসনের নির্দেশে। তিনি বলেন, ‘প্রথমদিকে বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে দেখলাম, সিএসকের ম্যাচে ইচ্ছেমতো আম্পায়ার বদলে দেওয়া হচ্ছে। এটা স্রেফ ফিক্সিং। আমি এ নিয়ে কথা বলতে গেলে শ্রীনিবাসন আমার বিরুদ্ধে চলে যান।’

শুধু আম্পায়ারিং নয়, ২০০৯ সালের আইপিএল নিলামেও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন মোদি। তার দাবি, সেই নিলামে ইংলিশ অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফকে চেন্নাই সুপার কিংসের জন্য নিশ্চিত করতে অন্য দলগুলোকে নিলামে অংশ না নিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘নিলামের আগে বলা হয়েছিল, কেউ যেন ফ্লিন্টফের জন্য বিড না করে। শেষ পর্যন্ত নিলামের পরিচালকের মাধ্যমে ফ্লিন্টফকে সিএসকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শ্রীনিবাসনের চাপে আমাকেও এতে সায় দিতে হয়েছিল।’

২০০৮ সালে ললিত মোদির নেতৃত্বেই আইপিএল শুরু হয়। শুরুর দিকে আইপিএল জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠলেও পরে নানা বিতর্ক ও আর্থিক অনিয়মের কারণে ২০১০ সালে মোদিকে বিসিসিআই থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং ক্রিকেট থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে লন্ডনে নির্বাসিত মোদি এবার শ্রীনিবাসনের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। 

তিনি আরও দাবি করেন, শ্রীনিবাসন কখনোই আইপিএলকে পছন্দ করতেন না। তার ভাষায়, ‘শ্রীনিবাসন ভেবেছিলেন, আইপিএল সফল হবে না। কিন্তু যখন আইপিএল জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করল, তখন তিনি নিজের স্বার্থে এটি ব্যবহার করতে চাইলেন।’

সিএসকে ২০১৩ সালে আবারও বিতর্কে জড়ায় স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির মাধ্যমে। সেই ঘটনায় শ্রীনিবাসনের জামাই গুরুনাথ মইয়াপ্পনের নাম উঠে আসে। একই ঘটনায় চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালস দুই বছর আইপিএল থেকে নিষিদ্ধ ছিল। 

মোদির এসব অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিসিসিআই কিংবা চেন্নাই সুপার কিংসের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।