আইপিএল ২০২৬ এ এখন পর্যন্ত চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে একটি ম্যাচও খেলেননি মহেন্দ্র সিং ধোনি। তবে আজ সোমবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে লিগ পর্বের শেষ হোম ম্যাচে কি মাঠে নামবেন তিনি? চিপকের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে আজ রাতের ম্যাচের টসের সময়ই কেবল এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই এই ম্যাচটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোনির এক আবেগঘন বিদায়ের আবহ।
মৌসুম শুরুর ঠিক আগে থেকেই পায়ের পেশির চোট সমস্যায় ভুগছিলেন ধোনি। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল তিনি প্রথম দুই সপ্তাহ মিস করবেন, কিন্তু সেই সময়সীমা অনেকটাই দীর্ঘায়িত হয়। চেন্নাইয়ের ব্যাটিং কোচ মাইকেল হাসি জানিয়েছিলেন, ধোনি নেটে দারুণ ব্যাটিং করলেও উইকেটের মাঝে দৌড়ানোর ক্ষেত্রে নিজের গতি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই করছিলেন।
পরবর্তীতে প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং জানান, ধোনিকে জলদি মাঠে ফেরানোর একটি প্রচেষ্টা করা হয়েছিল, তবে একটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে তিনি আবারও একই জায়গায় চোট পান। ফলে ঝুঁকি না নিয়ে ধোনিকে দীর্ঘ পুনর্বাসনে রাখা হয়।
তবে ম্যাচের আগে সব গুঞ্জন নতুন মোড় নেয় অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের একটি মন্তব্যে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, "আমার মনে হচ্ছে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে এমএস ধোনির খেলার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। যতটুকু শুনেছি, ও গত দুই-তিনটি ম্যাচ ধরেই মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত ছিল।" অশ্বিনের এই মন্তব্য ধোনির ফেরার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
ধোনি আজ খেলুন বা না খেলুন, চিপকের গ্যালারিতে আজ আবেগের পারদ তুঙ্গে। এর পেছনে রয়েছে ২০২১ সালের নভেম্বরে চেন্নাইয়ের আইপিএল জয়ের পর ধোনির দেওয়া একটি পুরোনো প্রতিশ্রুতি। সে সময় ধোনি বলেছিলেন, "আমি সবসময় আমার ক্রিকেট নিয়ে পরিকল্পনা করি। আমার শেষ ওয়ানডে খেলেছি রাঁচিতে। তাই আশা করি, আমার শেষ টি-২০ ম্যাচটি আমি চেন্নাইয়েই খেলব। সেটা আগামী বছর হোক বা পাঁচ বছর পর, আমরা জানি না।"
কাকতালীয়ভাবে, সেই প্রতিশ্রুতির প্রায় পাঁচ বছর পর আজ চেন্নাই তাদের ঘরের মাঠে এই মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলতে নামছে। চেন্নাই বা ধোনি কেউই অবসর নিয়ে অফিশিয়াল কোনো বিবৃতি দেননি, তবে ধোনির সেই পুরোনো কথা এবং পুরো মৌসুমে তাঁর অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে সমর্থকরা আজ ধোনির একটি 'ফেয়ারওয়েল' বা বিদায়ী আবহ ধরেই মাঠে আসছেন।
চেন্নাই সুপার কিংসের জন্য আজ প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এমন মরণ-বাঁচন ম্যাচে ধোনি যদি খেলেন, তবে টিম কম্বিনেশনে বড় পরিবর্তন আসবে। তিনি কি পুরোদস্তুর উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে খেলবেন, নাকি লোয়ার-অর্ডারে শুধু মারকুটে ব্যাটিং বা ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে ব্যবহার হবেন, সেটি বড় প্রশ্ন। আর যদি ফ্লেমিংয়ের সেই ইনজুরির ঝুঁকির কথা চিন্তা করে টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে না খেলায়, তবে ধোনিকে ছাড়াই হয়তো ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচটি খেলতে হবে সিএসকে-কে।