ঢিলেঢালাভাবে চলছে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের নিবন্ধন কার্যক্রম। সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ছিল ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ হজযাত্রী নিবন্ধন না করায় সময়সীমা ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হজের নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে হজ এজেন্সি মালিকদের দাবি হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো দরকার। গতকাল পর্যন্ত ১০৯টি হজ এজেন্সি কোনো হজযাত্রীর প্রাথমিক নিবন্ধন ও চূড়ান্ত নিবন্ধন করেনি। এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। গতকাল মন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
হজ এজেন্সি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১৭ হাজার জনসহ মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন সুযোগ পাবেন। যারা হজে যাবেন তাদের প্রাথমিক নিবন্ধন ও চূড়ান্ত নিবন্ধন গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়। হজ পালনে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেই হিসাবে আগামীকাল শনিবার ছিল নিবন্ধনের শেষদিন। হিসাব বলছে, গত ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৩৮ হাজার ৩৫৫ হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩৬৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৩ হাজার ৯৮৭ জন রয়েছেন। বেশিরভাগ হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন না করায় সরকার বাধ্য হয়ে নিবন্ধনের সময় ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ায়। গতকাল বিকালে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।
এদিকে, হজযাত্রীর নিবন্ধন কম হওয়ায় নিবন্ধন কার্যক্রমের সময়সীমা আগামী
পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১ >
ধীরগতিতে চলছে
হজের নিবন্ধন
৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ের আবেদন করেছেন হজ এজেন্সির মালিকরা। সাধারণ হজ এজেন্সির মালিকদের পক্ষে লিখিত আবেদন করেন হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ সরদার ও সাবেক মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। আবেদনে তারা জানান, জুলাই বিপ্লব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ব্যাংকিং সেক্টরে অস্থিরতার কারণে বেশ কিছু ব্যাংকে সাধারণ মানুষের জমাকৃত অর্থ ফেরত দিতে সমস্যা হচ্ছে। তাই হজযাত্রীর নিবন্ধন আশঙ্কাজনকভাবে কম হচ্ছে, যা বাংলাদেশের কোটা অনুযায়ী অত্যন্ত কম। এ ছাড়া অনেক হজযাত্রী পাসপোর্টের আবেদন জমা দিয়ে পাসপোর্ট হাতে পাননি। অনেকে পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানো আবেদন করে পাসপোর্ট হাতে পাননি। এ ছাড়া নিবন্ধনের সময় ৩ লাখ টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম করায় অনেক হজযাত্রীর পক্ষে টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। বিগত বছরগুলোয় হজযাত্রীর নিবন্ধনের সময় একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হজযাত্রীর নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো দরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাবের সাবেক মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বছর জানুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলেছে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেক এজেন্সির হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেননি। আমরা সরকারের কাছে হজযাত্রীর নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের জানানো হয়নি।
১০৯ এজেন্সিতে কোনো হজযাত্রীর নিবন্ধন নেই : ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৯৩৭টি হজ এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ১০৯টি এজেন্সির কোনো প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রী নেই। সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। এরই অংশ হিসেবে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এসব হজ এজেন্সিকে হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন না করায় তাদের হজ কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়াসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।
অন্যদিকে, হজযাত্রীর প্রাক-নিবন্ধন হওয়ার পর হজ এজেন্সির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হজযাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় সরকার প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের হজ এজেন্সি পরিবর্তন করে তাদের পছন্দের এজেন্সিতে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীকে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এজেন্সি পরিবর্তনের অনুমোদন দেবে সরকার। এরই মধ্যে যেসব হজযাত্রী আবেদন করেছেন, তাদের হজ এজেন্সি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর ১০টি হজ এজেন্সির ১৬ হজযাত্রীকে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হজ এজেন্সি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। যেসব হজ এজেন্সির হজযাত্রী পরিবর্তন করা হয়েছে তার মধ্যে মনিরামপুর এয়ার ট্রাভেলসের তিনজন, দিয়া ইন্টারন্যাশনালের দুজন, মার্ক এয়ার ট্রাভেলসের দুজন, যিকরা হজ ট্যুরসের দুজন, নর্থ বেঙ্গল হজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের একজন এবং নিয়ার অ্যান্ড ফার ট্রাভেলসের ছয়জন রয়েছেন।
১৭৩ এজেন্সি হজ প্যাকেজ ই-হজ সিস্টেমে আপলোড করেনি : জানা গেছে, আগামী ২০২৫ সালের হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সরকার অনুমোদনপ্রাপ্ত সব বেসরকারি এজেন্সিগুলোকে তাদের হজ প্যাকেজ ই-হজ সিস্টেমে আপলোড করতে হবে। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত ১৭৩টি হজ এজেন্সি তাদের হজ প্যাকেজ ই-সিস্টেমে আপলোড করেনি। এতে হজ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ কারণে তাদের জরুরি ভিত্তিতে হজ প্যাকেজ সিস্টেমে আপলোড করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।