রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে বেড়েছে পোড়া রোগী ভর্তির সংখ্যা। গরম পানি, দুধ বা অন্য কোনো তরল পদার্থের মাধ্যমে দগ্ধ হওয়া রোগী চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই ছাড়িয়ে গেছে আগের বছরের সংখ্যা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে শুধু শীত মৌসুমে দগ্ধ রোগী বাড়লেও এখন ‘তরল বার্ন’ বেড়ে যাওয়ায় সারা বছরই রোগী থাকছে হাসপাতালে। আর তরলে দগ্ধ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি শিশুরা। অভিভাবকরা অসচেতনভাবে গরম পানি বা গরম দুধ রেখে দেওয়ার কারণেই এমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গে রামেকের বাইরে শুধু রংপুর ও বগুড়ায় বার্ন ইউনিট আছে। তবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানকার পোড়া রোগীদেরও ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে রামেক হাসপাতাল।
রামেকের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ইউনিটটিতে আধুনিক চিকিৎসা হলেও নেই আইসিইউ সাপোর্ট। রামেক হাসপাতালের তথ্যমতে, গত বছর হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছিল ১ হাজার ১৮০ জন রোগী। এদের মধ্যে আগুনে পোড়া রোগী ভর্তি হয় ৫৬৩ জন। তরল বার্ন ইউনিটে রোগী ভর্তি হয় ৪৪৭ জন। এ ছাড়া কেমিক্যাল ও অন্যান্য বার্নে ভর্তি হয় ১৭০ জন। তরল বার্ন রোগী ভর্তির মধ্যে ৯৯ পুরুষ, ১১৩ নারী ও ২৩৫ জন শিশু।
আর চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২২২ জন দগ্ধ রোগী। এদের মধ্যে আগুনে পোড়া রোগী ছিল ৫৩৩ জন। তরল বার্ন রোগী ছিল ৫১৯ জন। এ ছাড়া কেমিক্যাল ও অন্যান্য বার্নের রোগী ছিল ১৭০ জন। তরল বার্ন রোগী ভর্তিদের মধ্যে ১০৬ পুরুষ, ৯৬ নারী ও ৩১৭ জন শিশু। শুধু তরল বার্ন রোগী ১০ মাসে বেড়েছে ৭২ জন। এদের মধ্যে শিশু বেড়েছে ৮২ ও পুরুষ বেড়েছে ৭ জন। তবে নারীর সংখ্যা কমেছে ১৭ জন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা নাসির আলী রামেক হাসপাতালে এনেছেন তার ছেলেকে। পাঁচ বছর বয়সী ছেলের দুই হাত পুড়ে গেছে। তিনি জানান, গরম পানি রেখে কাজ করছিলেন তার মা। এরই মধ্যে ছেলে গিয়ে পানির মধ্যে হাত ডুবিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গেই এখানে এসেছি। এখন চিকিৎসা চলছে।
একই অবস্থা নওগাঁ থেকে আসা রোগী সিফাতের। সিফাতের বয়স মাত্র তিন বছর। সেও আক্রান্ত হয়েছে গরম পানিতে। তার বাবা মঞ্জুর হোসেন জানান, ছেলের গোসলের জন্য পানি নামিয়ে রেখে তার মা অন্য কাজ করছিল। ছেলে গিয়ে সেই পানিতে পড়ে। এখন তার বুকে ও হাতে পোড়া আছে। তার চিকিৎসা চলছে।
রামেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. অফরোজা নাজনিন বলেন, আগে শুধু শীতকালে রোগী হতো। এখন সারা বছরই রোগী হচ্ছে। বিশেষ করে ইলেকট্রিক ও তরল বার্নের কারণে সারা বছরই রোগী থাকছে। তরল বার্নে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। সচেতনতার অভাবেই এটি বাড়ছে। শীতে এই সংখ্যা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, তরল বার্ন মূলত গরম পানি, দুধ ও অন্যান্য জিনিসে হয়। গরম জিনিস পড়েই মূলত এগুলো পুড়ে।
এই বার্নগুলো সাধারণত বেশি হয়ে থাকে। অনেক সময় হাত বা পা কেটে ফেলতে হয়। একটু সচেতন হলেই এসব জিনিস বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষ করে রান্নাঘরে শিশুদের ঢোকা বন্ধ করতে হবে।