১১৭ বছরের রেকর্ড ভাঙা তুষারপাত, বরফে ঢেকে গেছে সিউল

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের বাসিন্দারা চলতি সপ্তাহে সাদা রঙের একটি ঝলমলে জগতে প্রবেশ করেছে। তবে তাদের এ সাদা দুনিয়া কোনো আনন্দের নয়। কেননা রেকর্ড তুষারপাতে ঢেকে গেছে সিউলের বাড়ি-ঘর, সড়ক এমনকি গাছপালা। এতে রাজধানী জুড়ে বিঘ্ন এবং আনন্দ উভয়ই সৃষ্টি করেছে।

কোরিয়া আবহাওয়া প্রশাসন (কেএমএ) জানিয়েছে, বুধবার শহরটিতে ১৬.১ সেন্টিমিটার (৬.৩ ইঞ্চি) তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯০৭ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে নভেম্বরে সবচেয়ে ভারী দৈনিক তুষারপাত। এর আগে ১৯৬৬ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল ৯.৫ সেন্টিমিটার (৩.৭ ইঞ্চি) তুষারপাত।

সারা দিন এবং রাতে আরও ভারী তুষারপাত হয়েছিল; বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর দক্ষিণে ইয়ংগিন শহরের কিছু অংশে ৪৭.৫ সেন্টিমিটার (১৮.৭ ইঞ্চি) তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেএমএ।

বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, তুষারের ভারে গাছগুলো হেলে পড়েছে এবং সিউলের আইকনিক প্রাসাদগুলো সাদা রঙে ঢেকে গেছে। বাসিন্দারা মোটা কোট পরে জড়ো হয়েছেন, কেউ কেউ স্নোবল নিক্ষেপ করছেন, তুষারমানব তৈরি করছেন এবং তুলতুলে তুষারপাত উপভোগ করছেন।

গত জুলাইয়ে দেশব্যাপী উদ্দীপনা নিয়ে জন্ম নেওয়া দেশটির প্রথম যমজ পান্ডা শাবককে বুধবার এভারল্যান্ড থিম পার্ক ও চিড়িয়াখানায় তুষারাবৃত মাঠে পিছলে যেতে দেখা যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত শীতে রক্ষকরা শাবকগুলোকে ঘরের ভেতরে রেখে দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো তুষারপাতের অভিজ্ঞতা হলো।

তবে তুষারপাতের কারণে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে, অনেক জায়গায় ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবহন পরিষেবা স্থগিত থাকে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, গুয়াংজুসহ রাজধানীর নিকটবর্তী শহরগুলোতে শত শত মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে দেশব্যাপী দেড় শতাধিক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে, এবং ১০০টিরও বেশি ফেরি পরিষেবা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

তুষারপাতের কারণে সিউলের আশেপাশের কমপক্ষে ১৮টি রাস্তায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত পাতাল ট্রেন যুক্ত করেছে।

এদিকে ভারী তুষারপাতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে দেখছে, যেগুলোর সঙ্গে খারাপ আবহাওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।

সিউলের দক্ষিণ-পূর্বে ওনজুতে একটি মহাসড়কে একাধিক গাড়ির স্তূপ ছিল। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, জরুরি কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্থ গাড়িগুলো জরিপ করছে এবং অন্যান্য লেনে ধীরগতির যানবাহনকে পরিচালনা করছে।

প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে বুধবার তুষারঝড় সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং ‘জনগণের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যবস্থাপনার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে।