যে দোয়া সব দোয়ার সমষ্টি

হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের মূল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাই মুমিন জীবনে দোয়ার গুরুত্ব অনেক। মহান আল্লাহ বান্দার সব দোয়াই কবুল করে থাকেন। হয়তো সঙ্গে সঙ্গেই কবুল করেন অথবা বিলম্বে কবুল করেন। আর যদি দুনিয়াতে কোনো দোয়া কবুল না করেন তবে সেই দোয়া বিফলে যায় না। বরং আখেরাতের জন্য সেই দোয়ার প্রতিফল রেখে দেন। বান্দা সারা জীবনে যত দোয়া করে, সেগুলোর মধ্য থেকে যে দোয়াগুলো কবুল হয় না, তা পরকালে বান্দা নেকি হিসেবে পাবে। তাই আমাদের উচিত হলো, মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা।

হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলোর মধ্যে এমন একটি দোয়া আছে, যে দোয়াকে রাসুল (সা.) সব দোয়ার সমষ্টি বলে উল্লেখ করেছেন। আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) অনেক দোয়াই করেছেন, কিন্তু আমরা সেগুলোর কিছুই মনে রাখতে পারিনি। একদা আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি অনেক দোয়াই করেছেন, কিন্তু আমরা সেগুলোর কিছুই মনে রাখতে পারিনি। রাসুল (সা.) বললেন, আমি কি তোমাদের এমন (একটি) দোয়া বলে দেব না, যা সব দোয়ার সমষ্টি হবে? দোয়ায় তোমরা বলো, ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা মিন খাইরি মা সাআলাকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন, ওয়া নাউজুবিকা মিন শাররি মাসতাআজা বিকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন, ওয়া আনতাল মুসতাআনু, ওয়া আলাইকাল বালাগু, ওয়ালা হাওলা, ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহি।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে সেই কল্যাণ আশা করি, যা তোমার নবী তোমার কাছে আশা করেছেন। আমরা তোমার কাছে সেই অনিষ্ট থেকে মুক্তি চাই, যে অনিষ্ট থেকে তোমার নবী তোমার কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। তুমিই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তুমিই (কল্যাণ) পৌঁছিয়ে দাও। আল্লাহ ছাড়া অনিষ্ঠতা রোধ করার এবং কল্যাণ পৌঁছানোর আর কোনো ক্ষমতাবান নেই। (তিরমিজি)

হাদিসে উল্লিখিত এ দোয়াটি সব দোয়ার সমষ্টি। আর এভাবে দোয়া করার জন্য তিনি সাহাবায়ে কেরামকে নসিহত করেছেন। যা মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের জন্য অনুকরণীয়। সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহর সাহায্য পেতে প্রিয় নবী (সা.)-এর নসিহত মেনে উল্লিখিত দোয়াটি বেশি বেশি পড়া এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সাহায্য কামনা করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই দোয়া নিয়মিত পাঠ করার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের কামিয়াবি হাসিল করার তৌফিক দান করুন।