পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের ক্ষেত্রে তাদের আগের কঠোর অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছে। বোর্ড জানিয়েছে, তারা ‘হাইব্রিড মডেল’ মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে শর্ত একটাই—আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত ভারতের মাটিতে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় যে আসরগুলো হবে, সেগুলোতেও একই মডেল অনুসরণ করতে হবে।
ভারতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত আইসিসি পুরুষদের তিনটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (যৌথভাবে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে), ২০২৯ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ (যৌথভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে)।
পিসিবি এর আগে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পুরোপুরি পাকিস্তানে আয়োজনের দাবি জানিয়ে ভারত না এলে টুর্নামেন্ট বর্জনের হুমকি দিয়েছিল। তবে বর্তমান অবস্থায় বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, তারা হাইব্রিড মডেলে রাজি হতে পারে যদি আইসিসি ভবিষ্যতের সব টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এতে পাকিস্তান দলকে ভারতের মাটিতে গিয়ে খেলতে হবে না।
ভারত-পাকিস্তানের খেলা হতে পারে দুবাইয়ে
যদি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হাইব্রিড মডেলে আয়োজন করা হয়, তবে ভারতের ম্যাচগুলো সম্ভবত দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তান সরকার থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর মহসিন নাকভি আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে এই প্রস্তাব দিয়েছেন। পিসিবি নাকি এই মডেল গ্রহণের জন্য কিছু আর্থিক সুবিধাও চেয়েছে।
পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, নাকভি পিসিবির রাজস্ব ভাগের পরিমাণ ৫.৭৫ শতাংশ থেকে বাড়ানোর দাবি করেছেন। তবে অতিরিক্ত কোনো আয়োজন ফি চাওয়া হয়নি।
টুর্নামেন্টের ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি এবং করাচিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিসিসিআই ইতোমধ্যেই আইসিসিকে জানিয়েছে যে তারা পাকিস্তানে কোনো ম্যাচ খেলবে না।
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনও দীর্ঘস্থায়ী। ২০১২ সালের পর থেকে ভারত-পাকিস্তান কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেনি। শেষবার ভারত পাকিস্তান সফর করেছিল ২০০৮ সালে এশিয়া কাপের জন্য।
পিসিবি-বিসিসিআই আলোচনা অব্যাহত
বিসিসিআইয়ের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে পিসিবি আইসিসিকে একটি চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে, ভারত কেন পাকিস্তানে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তবে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এর আগে জানিয়েছিলেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হাইব্রিড মডেলে আয়োজনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
যদিও পাকিস্তানের মিডিয়া বলছে, টুর্নামেন্ট হাইব্রিড মডেলে হলে বা পাকিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে পিসিবি টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে।
এখন পর্যন্ত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পাকিস্তানে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দুই দেশের বোর্ডের এই শীতল যুদ্ধের কারণে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।