শেখ হাসিনার ছবি দেখানোয় ক্ষুব্ধ গণপূর্ত উপদেষ্টা

গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নেওয়া প্রকল্পগুলোয় ব্যক্তির লাভ হয়েছে, জনগণের কিছু হয়নি। জনমুখী প্রকল্প করা প্রয়োজন ছিল। আপনাদের (সিডিএ কর্মকর্তা) মাথায় এখনো ফ্যাসিবাদের ভূত জেগে আছে। সেই ভূত তাড়িয়ে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার স্পিরিটকে ধারণ করে প্রকল্প নিতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’ গতকাল শনিবার সিডিএ সম্মেলন কক্ষে সিডিএর চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও সামগ্রিক বিষয়গুলো নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আদিলুর রহমান ছাড়াও ভূমি উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, গণপূর্ত সচিব হামিদুর রহমান খানসহ সিডিএ, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও গৃহায়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিডিএর চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে উপস্থাপন করতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শন করা হয়। শেখ হাসিনার সঙ্গে সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকেও দেখা যায়। জলাবদ্ধতা প্রকল্পের বর্ণনা করতে গিয়ে সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও জলাবদ্ধতা প্রকল্পের পরিচালক আহমেদ মাঈনুদ্দিন এই ছবি প্রদর্শন করেন। আর এতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

এ সময় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তা আপনারা এখনো ধারণ করছেন না। ফ্যাসিবাদ সরকারের ভূত এখনো মাথা থেকে যায়নি। কোথায় কী দেখাতে হবে, সেই বোধও আপনাদের হয়নি।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, আজকের প্রোগ্রাম নিয়ে আপনাদের কোনো প্রস্তুতি নেই। প্রকল্প উপস্থাপনে কী ছবি ও ভিডিও যাচ্ছে, তা আগে থেকে দেখা দরকার ছিল। এ সময় সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম সিডিএর পক্ষ থেকে উপদেষ্টাকে সরি বলেন এবং একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদের ভূত মাথা থেকে সরিয়ে সিডিএ জুলাই-আগস্টের স্পিরিট নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে উল্লেখ করেন।

ভূমি উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ বলেন, একটি নগরের জন্য সবার আগে পলিসি ঠিক করতে হবে। সেই পলিসি অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু আমরা এখানে তা দেখতে পাচ্ছি না। শুধু উন্নয়ন প্রকল্প দেখা যাচ্ছে।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে কীভাবে পকেটে টাকা ঢোকানোই মুখ্য ছিল। আর এরই প্রতিচ্ছবি দেখলাম আজকের উপস্থাপনায়।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা প্রকল্প কাজটি সিডিএর নয়। এটি সিটি করপোরেশনের কাজ। ফ্যাসিবাদ ব্যক্তিরা নিজেদের সুবিধার জন্য প্রকল্পটি তারা নিয়ে নিয়েছে। এই প্রকল্প শেষ করার পর অবশ্যই সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করতে হবে। তাহলে শুরু থেকে সিটি করপোরেশন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে না কেন?

ডা. শাহাদাত আরও বলেন, জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় এই যে সøুইসগেটগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণ শেষে এগুলো কীভাবে পরিচালনা করা হবে এবং সেই জনবল কোথায়। এসব অনেক বিষয় নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।

আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় চাক্তাই ডাইভারশন খালসহ অনেক খালের পানি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে কাজের সুবিধার্থে। কিন্তু আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে যদি খালগুলো পানি চলাচলের জন্য উপযোগী করে দেওয়া না হয়, তাহলে নগরবাসী জলাবদ্ধতা দুর্ভোগে পড়বে।

সভায় মেয়র আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমি এবং সিডিএ চেয়ারম্যান একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করব। ইতিমধ্যে আমরা কয়েক দফায় বৈঠকও করেছি। আশা করছি, মানুষের বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে আমরা এই শহরকে গড়ে তুলতে পারব।

এদিকে মতবিনিময় সভায় সিডিএর পক্ষে প্রকল্পবিষয়ক তথ্য নিয়ে মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপন করেন উপপ্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ ও মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের পরিচালক আবু ঈসা আনসারী, চাক্তাই টু কালুরঘাট শীর্ষক রোড কাম বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক রাজীব দাশ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকল্পগুলো নিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ কিউ এম শাহজালাল মজুমদার ও গৃহায়ন অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল সরকার।

সিডিএর মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্প উপস্থাপনের পর গণপূর্ত সচিব হামিদুর রহমান জানতে চান, মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া রিপোর্ট কবে নাগাদ জমা হবে। একই সঙ্গে মাস্টারপ্ল্যানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামতও লিখিত আকারে থাকতে হবে বলে তিনি নির্দেশনা দেন। অন্যদিকে আউটার রিং রোড প্রকল্প এবং চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত প্রকল্পটি কবে নাগাদ শেষ হবে, তা জানতে চাওয়া হয়। এসব প্রকল্প দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।