লন্ডন স্টেডিয়ামে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল আক্রমণাত্মক ফুটবলের উজ্জ্বল উদাহরণ। সাত গোলের রোমাঞ্চকর এক উপস্থাপনায় আর্সেনাল আরও একবার প্রমাণ করেছে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব। ৫-২ গোলের দুরন্ত জয়ে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডকে উড়িয়ে দিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে ফিরেছে মিকেল আর্তেতার দল।
আর্সেনালের হয়ে গোল করেছেন গাব্রিয়েল মাগালিয়াইস, লেয়ান্দ্রো ত্রোসার, মার্টিন ওডেগার্ড, কাই হাভার্টজ এবং বুকায়ো সাকা। ম্যাচের শুরু থেকে পজেশন ধরে রেখে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলা গড়ায়। প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল করে কার্যত ম্যাচ নিশ্চিত করে আর্তেতার শিষ্যরা।
ম্যাচের ১০ মিনিটেই বুকায়ো সাকার কর্নার থেকে হেডে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন গাব্রিয়েল। এরপর ২৭ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে সাকার বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে সহজেই দ্বিতীয় গোল করেন ত্রোসার।
ওয়েস্ট হ্যাম তখনও লড়াইয়ে ফিরতে পারেনি, এর মধ্যেই দুই মিনিটের ব্যবধানে আরও দুই গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় আর্সেনাল। ৩৪তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন অধিনায়ক ওডেগার্ড, আর ৩৬ মিনিটে প্রতি-আক্রমণে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৪-০ করেন হাভার্টজ।
তবে স্বাগতিক ওয়েস্ট হ্যাম ম্যাচে প্রাণ ফেরায় ৪০ ও ৪২ মিনিটে দুটি গোল করে। অ্যারন ওয়ান-বিসাকা এবং এমারসনের গোলে ব্যবধান কমায় তারা। তবে বিরতির আগেই গাব্রিয়েলকে ফাউল করার পর পেনাল্টি পায় আর্সেনাল, যা থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৫-২ করেন সাকা।
প্রথমার্ধের গোলবন্যার পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ কিছুটা স্থির হয়ে যায়। দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ থেকে লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এটি ছিল মাত্র চতুর্থ ম্যাচ, যেখানে প্রথমার্ধেই সাত গোল হয়েছে। এর আগে ব্ল্যাকবার্ন-লিডস (১৯৯৭), ব্র্যাডফোর্ড-ডার্বি (২০০৭) এবং রিডিং-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের (২০১২) ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটেছিল।
এই জয়ের ফলে ১৩ ম্যাচে সাত জয় ও চার ড্রয়ে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে আর্সেনাল। শীর্ষে থাকা লিভারপুলের পয়েন্ট ৩১, তবে তারা একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে।
আন্তর্জাতিক বিরতির পর আর্সেনাল এখন দুর্দান্ত ফর্মে ফিরেছে। টানা তিন ম্যাচ জিতে এবং প্রতিটি ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে আর্তেতার দল।