দেশে ডেঙ্গুতে চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিনে মারা গেছে ৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দ্জুন চট্টগ্রাম বিভাগে এবং ঢাকা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে একজন করে ভর্তি ছিল। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গুর এ তথ্য জানিয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮৮২ জন ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে ২৩৩ জন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪১, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৪০, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০৪, বরিশাল বিভাগে ৬৭, রাজশাহী বিভাগে ৫৪, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৩, রংপুর বিভাগে ১১ ও সিলেট বিভাগের হাসপাতালে ৮ জন ভর্তি হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার শেষ হওয়া নভেম্বর ছিল ডেঙ্গুতে এ বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যুর মাস। এ মাসে মারা যায় ১৭৩ জন। এ বছর এক মাসে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যু। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩৫ জন মারা যায় গত অক্টোবরে ও তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় সেপ্টেম্বরে ৮৭ জনের।
এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেল ৪৯৪ জন। অর্থাৎ মৃত্যু ৫০০ ছুঁই ছুঁই করছে। ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মারা গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ২০৯ জন। এরপর বরিশাল বিভাগে ৫৬, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ১, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৯, ঢাকা বিভাগে ৪১, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮৯, খুলনা বিভাগে ২৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩, রাজশাহী বিভাগে ৭ ও রংপুর বিভাগে ২ জন মারা গেছে।
গত নভেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৬৫২ জন। এটা এ বছরের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় রোগীর সংখ্যা। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গেছে গত অক্টোবরে ৩০ হাজার ৮৭৯ জন।
এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৩৫১ জন। তাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ শতাংশ নারী। সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৯ হাজার ৫৫৯ জন। এরপর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৬ হাজার ২৭৯, ঢাকা বিভাগে ১৬ হাজার ৮৮২, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ হাজার ৩৮৫, খুলনা বিভাগে ৯ হাজার ১০, বরিশাল বিভাগে ৭ হাজার ৯৯৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৯, রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৪১২, রংপুর বিভাগে ১ হাজার ৪৩৩, সিলেট বিভাগে ২ হাজার ৯৯, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ৩ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়।