ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বেড়ে সর্বোচ্চ ২৫%

ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড সব গ্রাহক পান না। অধিকাংশ ব্যাংকে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা আয়ের গ্রাহকরা এ কার্ড পান। সাধারণত ক্রেডিট কার্ডকে সচ্ছলদের কার্ড হিসেবেই দেখা হয়। এবার চার বছর পর ক্রেডিট কার্ডে সুদহার বাড়ানো হয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের সুদহার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্রেডিট কার্ড নিয়ে এই নির্দেশনা নতুন বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। এর আগে এর সুদহার ছিল ২০ শতাংশ।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলোর ঋণযোগ্য তহবিল নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ক্রেডিট কার্ড সীমার বিপরীতে ঋণ সুবিধা প্রদানসহ সুদহার যৌক্তিক করা হয়েছে। গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণে ক্রেডিট কার্ডের ওপর সুদহার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ নির্ধারণের নির্দেশনা আছে। তবে সুষ্ঠু ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে এবং নীতি সুদহার ও ব্যাংকগুলোর ক্রমবর্ধমান তহবিল ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার লক্ষ্যে ক্রেডিট কার্ডের ওপর সুদহার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। ব্যাংকগুলোর ঋণের চাহিদা ও ঋণযোগ্য তহবিলের জোগান সাপেক্ষে এ সীমার মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার নির্ধারণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়াল সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের দেশে বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে, সুদহার বাড়িয়ে ঋণের প্রবাহ আসলে খুব একটা কমে না। এ পদ্ধতি খুব একটা কাজ করে না। ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বাড়ানোর ফলে রিটেইলার গ্রাহকদের খরচ বেড়ে যাবে। অন্যদিকে ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভ বাড়বে। তারা সুদ বেশি দিয়ে গ্রাহক আকৃষ্ট করতে পারবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ‘ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো তাদের প্রদত্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসরণ করে মুনাফার হার নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।’

জানা গেছে, ক্রেডিট কার্ডে শীর্ষে রয়েছে সিটি, ব্র্যাক, ইস্টার্ন ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে গভর্নরের কাছে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সুদহার সীমা ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করল।

গত সেপ্টেম্বর মাসে গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকের এমডিদের ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময় ক্রেডিট কার্ডের সুদহার ১৮ শতাংশের বেশি যাতে অতিক্রম না করে, সে বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনা ছিল। তা বাতিল করে সার্কুলার অনুযায়ী সুদহার নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২০ সালে ক্রেডিট কার্ডের সুদহার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত রাখার নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে নির্দেশনা ছিল, ক্রেডিট কার্ডের সুদ অন্য ঋণের সুদের চেয়ে ৫ শতাংশের বেশি হবে না। ফলে ব্যাংকগুলো ১৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করতে পারত। তবে অনেক ব্যাংকই বিভিন্নভাবে এর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করত।

বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলো ৪৫ দিন পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়। ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমার বিপরীতে ৫০ শতাংশের বেশি নগদ উত্তোলন করা যায় না। মাসের একটা নির্দিষ্ট দিনে ক্রেডিট কার্ডের স্টেটমেন্ট জেনারেট হয়। যে তারিখে কার্ড বরাদ্দ হয়, সে তারিখেই ওই কার্ডের স্টেটমেন্ট জেনারেট হয়ে থাকে।

একবার স্টেটমেন্ট জেনারেট হওয়ার পর পরের স্টেটমেন্ট জেনারেট হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত দিনসহ ব্যাংকভেদে প্রায় ৫০ দিনের ইন্টারেস্ট ফ্রি সময় পাওয়া যায়। আর অতিরিক্ত দিনে বিল মিটিয়ে দিলে সুদ গুনতে হয় না। এটিএম থেকে নগদ টাকা তুললে সে ক্ষেত্রে এ ইন্টারেস্ট ফ্রি পিরিয়ড প্রযোজ্য হয় না।