বাজার সংস্কারে নজর নেই সরকারের

সরকার অনেক বিষয় সংস্কারের কথা বললেও বাজার ব্যবস্থা সংস্কারে হাত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) নেতারা। তারা বলছেন, বিগত সরকারের সময়ে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত মুনাফা ভোগীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাজারের অস্থিরতা কমছে না। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ক্যাব আয়োজিত আলু-পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ সময় নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে ৮ দফা দাবি তুলে ধরে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা জাতীয় সংগঠনটি।

মানববন্ধনে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সরকার অনেক বিষয় সংস্কারের কথা বলছেন, কিন্তু বাজার ব্যবস্থা সংস্কারে হাত দিচ্ছে না। বাজার ব্যবস্থা সংস্কার ছাড়া প্রচলিত ব্যবস্থা সচল রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সার, বীজ, কীটনাশক, বিদ্যুৎ পানির খরচ কমিয়ে দেশ উৎপাদিত ফসলের ব্যয় কমাতে হবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদক সমবায় ও জেলা সদরে উৎপাদক সমবায় গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজি প্রতিহত করে পণ্য সরবরাহ করতে হবে। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত মুনাফা ভোগীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাজারের অস্থিরতা কমছে না। কথিত সিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাজারের শৃঙ্খলা ফিরবে না।

তিনি আরও বলেন, ডিমের বাজার এখনো ঊর্ধ্বমুখী। ১৫৫ থেকে ৬০ টাকা হালির কমে পাওয়া যাচ্ছে না ফার্মের মুরগির ডিম। অথচ এখন শীতের মৌসুমে ডিমের সরবরাহ বেশি। তারপরও ডিম-মুরগির দাম কমছে না। তাহলে ডিমের ওপর থেকে আমদানি কর তুলে নিয়ে দেশের লাভটা কী হলো? শুধু সিন্ডিকেটের দোহাই দিয়ে দায় সারবেন না। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার সরকার (আওয়ামী লীগ) যদি পতন হতে পারে, তাহলে সিন্ডিকেট কেন ভাঙবে না? এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নিন, ভোক্তার স্বস্তি দিন।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, ভরা মৌসুমেও আলু-পেঁয়াজের দাম চড়া। খোলা ভোজ্য তেল বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও বাজারে তা পাওয়া যাচ্ছে। ডিমের বাজার বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে জিম্মি, তারা ইচ্ছে মতো দাম বাড়াচ্ছে। এখানে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এ বিষয়ে আইন আছে, কিন্তু তার বাস্তবায়ন নাই। যার কারণে বাজার অস্থির।

পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যবস্থা নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কৃষক পর্যায়ে প্রয়োজন হলে ভর্তুকি দিয়ে তাদের কম মূল্যে পণ্য উৎপাদনে সহযোগিতা করুন। তারা কম দামে পণ্য উৎপাদন করতে পারলে, কম দামে কিনতে পারবে ভোক্তা। পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য ভোক্তার হাতে সহজে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

এ সময় বক্তারা বলেন, উৎপাদিত নতুন আলু কৃষক কম দামে বিক্রি করলেও হিমাগার পর্যায়ে আলুর দাম এখনো বেশি। এ কারণে খুচরা বাজারেও পণ্যটির দাম কমেনি। হিমাগার পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর তদারকি না থাকায় আলুর দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া শীতের সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দামও পড়তির দিকে। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে সেই সুফল পাচ্ছে না ভোক্তা সাধারণ।

এ সময় নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের লক্ষে ক্যাবের পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি ঢাকা জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে জমা দেন সংগঠনটির নেতারা।