আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্য আইন, অর্থনৈতিক গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটকে (বিএফটিআই) একটি শক্তিশালী জাতীয় থিংক ট্যাংক হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিএফটিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের ৬৩তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই দিন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ১৪৯তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নতুন বিনিয়োগ ও রপ্তানির সুযোগ তৈরির জন্য ৫০টি আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ।
বিএফটিআই সভায় মন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষায় বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাজার ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে গভীর গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই বিএফটিআইকে নতুন পরিকল্পনায় আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিয়ে আমাদের কোনো সংকট নেই, প্রয়োজন ছিল দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনার। এখন সেই জায়গায় কাজ শুরু হয়েছে।’ তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি, বিধিবিধান ও আইনি ব্যাখ্যায় দক্ষ জনবল তৈরিতে বিএফটিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও জানান, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির বাজার পরিস্থিতি, বাণিজ্যিক প্রবণতা, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করবে বিএফটিআই। এসব গবেষণা সরকারের নীতি নির্ধারণ এবং বেসরকারি খাতের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।
সভায় বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ড. মোস্তফা আবীদ খানের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, দেশের বাণিজ্য নীতি ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন একাধিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা, রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রভাব, অ্যান্টি-ডাম্পিং, কাউন্টারভেইলিং ও সেফগার্ড ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের চামড়া খাতের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে গবেষণা।
এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের জন্য দেশের এয়ার টিকিটিং বাজারের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি নিয়েও গবেষণা চলমান রয়েছে। বাণিজ্য নীতি পর্যালোচনা, আরজেএসসি নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল, কর-ভ্যাট-কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানি পদ্ধতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, বিএফটিআই ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসা বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউএনডিপি, সানেম ও ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গবেষণা ও সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বিএফটিআই এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব ) ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ এবং বিএফটিআই পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ইপিবির সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেনÑ ‘ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার কাজ করছে এবং আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যেই এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে। বর্তমান সরকারও দেশের অর্থনীতির বিকাশ, নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি এবং ব্যবসার সম্প্রসারণে কাজ করছে। শুধু কথায় নয়, বিনিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ক্যালেন্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অনুযায়ী, ১২টি অগ্রাধিকার খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ২৭টি দেশে মোট ৫০টি আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) ২০২৭ আয়োজনের জন্য স্টিয়ারিং কমিটিও অনুমোদন করা হয়। মেলার সম্ভাব্য সময় আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সভায় বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিসিএফইসি) ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।