জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল সোমবার অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী রবিবার আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসবে।
অনীক আর হক বলেন, হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত চেয়ে গত ২৬ নভেম্বর আবেদনটি করা হয়। এরপর আবেদনটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে তোলা হলে আদালত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠায়। আগামী রবিবার এ বিষয়ে শুনানির জন্য ধার্য করেছে আপিল বিভাগ।
২০২০ সালের ১০ মার্চ ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে রায় দেয় বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। বাংলায় দেওয়া রায়ের আদেশের অংশে আদালত বলেন, ‘আমরা ঘোষণা করছি যে “জয় বাংলা” বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হবে।’
‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা চেয়ে ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদের করা রিটের শুনানি শেষে এ রায় দেয় হাইকোর্ট। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয় শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা।
১৫ আগস্ট শোক দিবস পালন নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত : ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন ও সরকারি ছুটি বাতিল ঘোষণা করাকে ১৬ বছর আগে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল সরকার। রাষ্ট্রপক্ষের সেই আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত করেছে সর্বোচ্চ আদালত। গত রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গত ২৭ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষে হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়। আপিল বিভাগ রায়টি স্থগিত করেছে।’
১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সেই সরকারের সময় থেকে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা দিবসকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়। তবে, ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালে জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটের শুনানি শেষে ২০০৮ সালের ২৭ জুলাই হাইকোর্ট এক রায়ে জাতীয় শোক দিবস পালন এবং ওইদিন সরকারি ছুটি বাতিল করাকে অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১৩ আগস্ট এ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ১৫ আগস্টের ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। সম্প্রতি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে সরকার।