অজুর ১০ ফজিলত

আল্লাহতায়ালা তার ইবাদতের জন্য আমাদের সৃষ্টি করেছেন। নামাজ ইবাদতের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত, যার জন্য পবিত্রতা অপরিহার্য। পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো অজু। অজুর অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে।

আল্লাহর ভালোবাসা লাভ : অজুর মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা প্রার্থীদের এবং যারা পবিত্র থাকে তাদের পছন্দ করেন।’ (সুরা বাকারা ২২২)

অজু ইমানের অর্ধেক : এ মর্মে হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘অজু ইমানের অর্ধেক।’ (তিরমিজি ৩৫১৭)

অজু নামাজের চাবি : অজু ছাড়া নামাজ আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নামাজের চাবি হলো অজু।’ (আবু দাউদ ৬১৮)

ছোট পাপগুলো ঝরে যায় : মুমিন বান্দা যখন নামাজের জন্য অজু করে, তখন অজুর সঙ্গে তার ছোট পাপগুলো ঝরে যায়। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অজু করে এবং উত্তমভাবে অজু করে, তার শরীর থেকে তার সব গুনাহ ঝরে যায়, এমনকি তার নখের নিচ থেকেও তা বের হয়ে যায়।’ (মিশকাত ২৮৪)

অজু বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে : হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটি কথা বলব না, যা আমল করলে আল্লাহতায়ালা তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেবেন এবং মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন? সাহাবারা আবেদন করলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তখন তিনি বললেন, কষ্ট হলেও পূর্ণভাবে অজু করা, মসজিদের দিকে অধিক পদক্ষেপ রাখা এবং এক ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর আরেক ওয়াক্ত নামাজের প্রতীক্ষায় থাকা।’ (মিশকাত ২৮২)

অজু জান্নাত লাভের মাধ্যম : অজুর মাধ্যমে মুমিন বান্দা জান্নাত লাভ করে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অজু করবে এবং উত্তমভাবে অজু করবে, এরপর কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করবে, তাহলে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে। এসব দরজার যেটা দিয়ে খুশি সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।’ (সহিহ মুসলিম ২৩৪)

কেয়ামতে অজু নিদর্শন হবে : কেয়ামতের দিন রাসুল (সা.) সমস্ত মানুষের মধ্যে তার উম্মতকে চিনবেন। এ ব্যাপারে সাহাবিরা রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কীভাবে এত লোকের মধ্যে আপনার উম্মতকে চিনবেন? উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, আমার উম্মত অজুর কারণে ধবধবে সাদা কপাল ও ধবধবে হাত-পা বিশিষ্ট হবে, অন্য কোনো উম্মতের মধ্যে এরূপ হবে না।’ (মুসনাদ আহমদ ৩২৩০)

ফেরেশতারা দোয়া করে : হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অজু করে পবিত্র অবস্থায় নিদ্রা যাপন করে, তার সঙ্গে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকে। যখন সে পার্শ্ব পরিবর্তন করে, তখন ফেরেশতা বলে, আল্লাহ! এই বান্দাকে ক্ষমা করুন! কেননা সে পবিত্র অবস্থায় নিদ্রা যাপন করেছে।’ (তারগিব ৫৯৭)

শয়তানের গিঁট খুলে যায় : ঘুম থেকে উঠে অজু করলে শয়তানের গিঁট খুলে যায়। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কোনো লোক যখন (রাতে) ঘুমিয়ে যায়, শয়তান তার মাথার পেছনের দিকে তিনটি গিরা লাগায়। প্রত্যেক গিরায় শয়তান তার মনে এ কথা উদ্রেক করে দেয় যে, এখনো অনেক রাত বাকি, কাজেই ঘুমিয়ে থাকো। সে যদি রাতে জেগে উঠে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তাহলে তার একটি গিরা খুলে যায়। তারপর সে যদি অজু করে আরও একটি গিরা খুলে যায়। যদি সে নামাজ আরম্ভ করে, তখন তার তৃতীয় গিরাটিও খুলে যায়।’ (সহিহ বুখারি ১১৪২)

দোয়া কবুল হয় : হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলিম রাতে পাক-পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর জিকির করে ঘুমিয়ে যায়, তারপর শেষ রাতে জেগে উঠে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করে, আল্লাহ তাকে (দুনিয়া ও আখেরাতে) অবশ্যই কল্যাণ দান করেন।’ (মিশকাত ১২১৫) মহান আল্লাহ আমাদের অজুর ফজিলতগুলো অর্জনের তওফিক দান করুন। আমিন।