প্রথমবার হকির বিশ্বকাপে বাংলাদেশ

ম্যাচ শেষের সাইরেন বেজে উঠতেই শুরু হয়ে গেল উল্লাস। একঝাঁক লাল-সবুজ সৈনিকের এই উদযাপনটাই তো মানায়! জুনিয়র হকি এশিয়া কাপে থাইল্যান্ডকে ৭-২ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ যুব হকি দল নাম লিখিয়েছে আগামী বছর ভারতে হতে যাওয়া যুব হকি বিশ্বকাপে। প্রথমবারের মতো হকির কোনো বিশ্বকাপ আসরে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ওমানের মাসকটে অনূর্ধ্ব-২১ দল গড়েছে এই ইতিহাস।

বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেন মোহাম্মদ জয় ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। ১টি করে গোল করেছেন মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান, মোহাম্মদ খান ও আমিরুল ইসলাম। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন আমিরুল।

এটি ছিল পঞ্চম থেকে সপ্তম স্থানের র‌্যাংকিং নির্ধারণী ম্যাচ। ‘বি’ গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে বাংলাদেশ অংশ নেয় এই ম্যাচে। প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ডকে কোনো সুযোগ না দিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় মওদুদুর রহমান শুভর শিষ্যরা। এই জয়ে এশিয়া থেকে বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে যাওয়া ছয় দলের একটি এখন বাংলাদেশ। আগামীকাল তারা পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে চীনের বিপক্ষে। যারা গতকাল দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের মতোই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে।

আয়োজক হিসেবে আগেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত ছিল ভারতের। এশিয়ায় বিশ্বকাপ বলেই কোটাও এবার বেড়েছে। জুনিয়র এশিয়া কাপ থেকে ছয় দলের মিলবে টিকিট। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে আগেই বিশ্বকাপে পা রেখেছিল পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও জাপান। গতকাল বাংলাদেশ ও চীনের মিলেছে টিকিট। কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে হতে যাওয়া সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচের বিজয়ী হবে শেষ ভাগ্যবান দল। অর্থাৎ আয়োজক ভারতের সঙ্গে আরও ছয়টি দল খেলবে বিশ্বকাপে।

হকির কোনো পর্যায়েই এর আগে কখনো বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ। তরুণদের হাত ধরে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে এবার। দুনিয়া জুড়ে জনপ্রিয় দলগত খেলাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ নিয়মিত খেলে ক্রিকেটের বিভিন্ন ঘরানার বিশ্বকাপ। ফুটবলে এটা বাংলাদেশের জন্য অলীক কল্পনা। তবে হকি অঙ্গনের মানুষের বিশ্বাস ছিল একদিন হকি জাতীয় দল খেলবে বিশ্বকাপে। সেই স্বপ্নের পথে এক ধাপ এগুলো বাংলাদেশ। কারণ এই অনূর্ধ্ব-২১ বয়সীরাই আগামীতে প্রতিনিধিত্ব করবে সিনিয়র দলে। ভয়ডরহীন হকি খেলে নিজেদের যে চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে তারা, তাতে তাদের হাত ধরেই একদিন সিনিয়র বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হতেই পারে।

মঙ্গলবার মাসকটে ম্যাচ চলাকালে ধারাভাষ্যকার বারবার বাংলাদেশকে ডার্ক হর্স বলে অভিহিত করে আসছিলেন। ওমানকে উড়িয়ে অভিযান শুরুর পর তারা পাকিস্তানের কাছে হারলেও শক্তিশালী মালয়েশিয়াকে রুখে দেয়। এরপর চীনের সঙ্গে ড্র করে তারা বি গ্রুপের তৃতীয় হয়। তাতে মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা পেয়ে যায় দুর্বল থাইল্যান্ডকে। আর নার্ভ ধরে রেখে ম্যাচটা তারা জিতে করে বিশ্বকাপের লক্ষ্য পূরণ।

প্রথম কোয়ার্টারেই দুই গোলের লিড নেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড আরেকটি করে গোল করে। ৩-১ স্কোরলাইন নিয়ে মধ্য বিরতিতে যায় দুই দল। তৃতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশ আরও তিন গোল করে জয়ের পথে আরও এগিয়ে যায়। চতুর্থ কোয়ার্টারে বাংলাদেশ আরেকটি গোল করে। থাইল্যান্ড চতুর্থ কোয়ার্টারে আরেকটি গোল করে কেবল হারের ব্যবধান কমিয়েছে।