বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নবনিযুক্ত কোষাধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) আবু হেনা মোস্তফা কামাল খানের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে আসার আগেই প্রভাব খাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নিজের নামে করার ‘চাপ প্রয়োগের’ অভিযোগ উঠেছে। এমন পদক্ষেপের কারণে ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে কর্মস্থলে আসতে পারছেন না তিনি। তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দিয়ে নিয়মিত প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষকদের একটি অংশ। কয়েক দিন আগে তার নিয়োগ বাতিল চেয়ে ১২৭ জন শিক্ষক একটি প্রতিবাদলিপিও দিয়েছেন। প্রতিবাদলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, উপাচার্য অর্থ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে যে কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন তবে সেটি সিন্ডিকেটের অনুমতি সাপেক্ষে ও রেজুলেশন বইয়ে উপাচার্যের লিখিত স্বাক্ষর ছাড়া বিষয়টি বৈধ নয়। কিন্তু এসব নিয়ম তোয়াক্কা না করে আগ বাড়িয়ে এ ধরনের কাজ করায় কোষাধ্যক্ষের ওপর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানান, একজন অপেশাদার ব্যক্তিকে কোনোভাবেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মানবেন না। তা ছাড়া আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলে দুর্নীতির অনেক অভিযোগ রয়েছে। নতুন কোষাধ্যক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক সব ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতা না করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গত ২৬ নভেম্বর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ট্রেজারার হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবু হেনা মোস্তফা কামাল খান নিয়োগ পান। তবে বিতর্কিত, দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিগত সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীরা তাকে যোগদানে বাধা দেন। পরবর্তী সময়ে ২৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা ক্যাম্পাস প্রবেশের সব গেটে তালাবদ্ধ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ববির ১২৭ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত ট্রেজারারের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদলিপি দেন। ওই দিন বিকেল ৩টায় গ্রাউন্ড ফ্লোরে মানববন্ধন করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান না করলেও ট্রেজারার আবু হেনা রনি মোস্তাফা কামাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অর্থ তার নামে অ্যাকাউন্ট করে ট্রান্সফার করতে হবে বলে সোনালী ব্যাংকের ববি শাখার ম্যানেজার ড. দিপু রাণী ভৌমিককে চাপ প্রয়োগ করেন। দিপু রাণী ভৌমিক প্রাথমিকভাবে এসব বিষয়ে রাজি না হওয়ায় তিনি বরিশালের সোনালী ব্যাংকের ডিজিএমসহ অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ববি শাখার ম্যানেজারকে অর্থের বিষয়টি নিয়ে চাপ দেন। দিপু রাণী বলেন, ২৭ নভেম্বর রাতে করপোরেট শাখার ডিজিএম (করপোরেট)-এর সঙ্গে আবু হেনা আলোচনা করলে করপোরেট শাখা থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। তখন রাতে পৌনে ৭টায় তিনি আমাকে ফোন দিয়ে ভার্সিটির একটা অ্যাকাউন্ট করতে চান এবং ভিসির স্বাক্ষর পরিবর্তন করে তার স্বাক্ষর যুক্ত করতে বলেন। অফিস টাইমের বাইরে এবং নিয়ম ভেঙে এ কাজ করতে অস্বীকার করলে আমাকে ক্যাম্পাসের বাইরে দেখা করার জন্যও চাপ প্রয়োগ করেন তিনি। আমি রাজি না হওয়ায় তিনি ডিজিএমদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার অবগত করলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন দেখিয়েছি। আইন অনুযায়ী এটা ট্রেজারার করতে পারেন না।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, আমাকে ওপর থেকে নিষেধ করা হয়েছে কারও সঙ্গে কথা না বলতে। আমি খুবই দুঃখিত, এই মুহূর্তে আমি কোনো কথা বলব না।
সার্বিক বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন বলেন, আমি কাজের মধ্যে আছি। এ নিয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না।