আগামী বছর জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দেশের পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ ৩০টি ছাত্র সংগঠন। গতকাল বুধবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্রশিবিরসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের মতবিনিময় সভা শেষে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। এদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা মোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ সভা হয়।
ছাত্রসংসদ নির্বাচনের কথা জানিয়ে হাসনাত বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি নিয়ে একটি প্রজন্মের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। আজকের (গতকালের) মিটিংয়ে আমরা একমত হয়েছি, জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ডাকসুসহ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ) সারা দেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন শুরু হয়ে যাক। কারণ মার্চে রোজা।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগেই ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বকে লেজিটিমেট করতে ...এর আগে ছাত্র সংসদ বা ডাকসু দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল, এরপর ২০১৮ সালে একটি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন হয়েছে... সেই চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় নির্বাচনের আগে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে কিংবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একমত হয়েছে সব ছাত্র সংগঠন।’
গতকালের বৈঠকের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ঐকমত্য ছাড়াও আরেকটি বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, আমরা যে সংস্কার চাচ্ছি আগামী ২০ তারিখে সব ছাত্র সংগঠন সে বিষয়ে একটি করে প্রস্তাব দেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে (গতকাল) ৩০টি সংগঠনের নেতৃত্ব এসেছে। অনেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেকটি প্রোগ্রামে যাওয়ায় উপস্থিত হতে পারেনি।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গতকালের সভায় যায়নি ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্র ফেডারেশনসহ আট ছাত্র সংগঠনের মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। তারা বলছে, জাতীয় ঐক্যে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে ছাত্র সংগঠনগুলোকে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিক্রিয়ায় তারা গতকালের বৈঠকে যায়নি।
তবে এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ড. ইউনূসের সঙ্গে ছাত্র সংগঠনের মিটিং ছিল না। কিন্তু অনেক গণমাধ্যম সেটিকে প্রচার করেছে, ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে ড. ইউনূসের মিটিং। এতে করে সমস্যাটি হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাদের ডিবিতে নিয়ে গিয়েছিল এবং যারা বর্তমানে নেতৃত্বে রয়েছে নতুন অর্গানোগ্রামে আমরা তারা সাম্প্রতিক কনসার্নগুলো জানাতে গিয়েছিলাম।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বৈঠকে অংশ না নেওয়ার ব্যাপারে ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ বলেন, ‘আমরা সব ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে জাতীয় ছাত্র কাউন্সিল গঠনের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সব ক্ষেত্রে নিজেদের গোষ্ঠীগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে তারা ছাত্র সংগঠনগুলোকে দূরে ঠেলে দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোকে জানানোর প্রয়োজনও তারা বোধ করেনি। আমরা মনে করেছি, সবার মধ্যে ঐক্য টিকিয়ে রাখার মতো পরিপক্ব আচরণ তারা করেনি।’
এ বিষয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামীন মোল্লা বলেন, ‘সভায় না যাওয়া আমাদের একটি প্রতিক্রিয়া। গত মিটিংয়ে আমরা আহ্বান করেছি ছাত্র সংগঠনগুলো প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বসতে চাই। আমাদের ওভারলুক করে ওনারা নিজেরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে চলে গেছেন। কাউকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া, দূরে রাখা, এটি জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। এটা দূর করতে হবে।’