ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণের ৮ ওয়ার্ড ও উত্তরের ১২

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৯৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৬টিতেই এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বা ‘ব্রুটো ইনডেক্স (বিআই)’ ২০-এর ওপরে। এ অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বলা হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছে ঢাকা দক্ষিণের আটটি ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার সর্বোচ্চ ঘনত্ব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার চেয়েও প্রায় চারগুণ। এসব ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ বিআই ৭০।

ঢাকা উত্তর সিটির ১২টি ওয়ার্ডে এডিসের লার্ভার ঘনত্ব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার দেড়গুণ। এসব ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ বিআই ৩৬ দশমিক ৬৭ ও সর্বনিম্ন ২৪।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে পরিচালিত বর্ষা মৌসুমের এডিস মশার জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ জরিপ প্রকাশ করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান।

ডেঙ্গুর পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে রাজধানীতে প্রতি বছর তিনবার বর্ষার আগে, বর্ষার সময় ও বর্ষার পরে এ জরিপ করা হয়। এবার ৪-১৩ নভেম্বর ঢাকার দুই সিটির ৯৯টি ওয়ার্ডের ৩ হাজার ১৩৪ পরিবারের ওপর বর্ষার জরিপটি করে প্রতিষ্ঠানটি।

আগের মৌসুমের জরিপের চেয়ে এবার রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বেড়েছে। জরিপ অনুযায়ী, এবার দুই সিটির গড় বিআই ২২ দশমিক ৭১। এর মধ্যে দক্ষিণে বিআই ২৫ দশমিক ৬ আর উত্তরে ১৮ দশমিক ৮। এর আগে গত এপ্রিলের সর্বশেষ জরিপে দুই সিটির গড় বিআই ছিল ১৭ দশমিক ১৩। এর মধ্য উত্তরে গড় বিআই ছিল ১৬ দশমিক ৩৯ আর দক্ষিণে প্রায় ১৯। আর গত বছরের জুলাই মাসে বর্ষা মৌসুমের জরিপে দক্ষিণের ২৮ ওয়ার্ডে এবং উত্তরের ২৮ ওয়ার্ডে বিআই ২০-এর বেশি ছিল। অর্থাৎ এই মৌসুমে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বেড়েছে।

এবার বিআই ১০-এর বেশি পাওয়া গেছে দুই সিটির ২৭টি ওয়ার্ডে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণের ১৬টি ও উত্তরের ১১টি ওয়ার্ড রয়েছে। বিআই ১০-এর নিচে পাওয়া গেছে ঢাকা দক্ষিণের সাতটি ও উত্তরের আটটি ওয়ার্ডে। মাত্র একটি ওয়ার্ডে বিআই শূন্য ছিল।

সর্বোচ্চ বিআই ৭০ পাওয়া গেছে ঢাকা দক্ষিণের ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে। ঢাকা উত্তর সিটিতে সর্বোচ্চ বিআই ৩৬ দশমিক ৬৭ পাওয়া গেছে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে।

বাসাবাড়িতে ঢাকা দক্ষিণে বিআই ১৮ দশমিক ৪ ও ঢাকা উত্তরে ১৬ দশমিক ১ এবং ঢাকা দক্ষিণে কনটেইনারে বিআই ৩৯ দশমিক ৮ ও ঢাকা উত্তরে ২৭ দশমিক ৪।

জরিপে অংশ নেওয়া ৩ হাজার ১৩৪টি বাড়ির মধ্যে সর্বোচ্চ ৫১ দশমিক শতাংশ বহুতল ভবনে, ১৮ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবনে, ১৭ শতাংশ আলাদা বাসাবাড়িতে, সেমিপাকা বাড়িতে ও ৫ শতাংশ শূন্য প্লটে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

এ বছরও ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে গত বছরের সমান অর্থাৎ ৩৫টি ওয়ার্ডে বিআই ২০-এর বেশি পাওয়া গেছে। তবে বিআই ১০-এর বেশি পাওয়া ওয়ার্ডের সংখ্যা এবার কমেছে। গত বছরের জরিপে এটি ছিল ৫৩টি ওয়ার্ডে। এবার তা কমে ৪৮টি হয়েছে।

এ সময় অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের মেয়াদ অনেক বেশি। অন্যান্য বছরে জুন-অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু বলবৎ থাকলেও এ বছর ডিসেম্বর মাস শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বিদ্যমান।’

জরিপের তথ্য তুলে ধরে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি কপোরেশনের চেয়ে আনুপাতিক হারে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার বেশি। ঢাকার সব হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগীর চাপ রয়েছে। বেসরকারি পর্যায়েও বারডেম হাসপাতাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল, সেন্ট্রাল, মুগদা হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল উল্লেখযোগ্য। ঢাকা ছাড়াও অন্যান্য জেলার অনেক ডেঙ্গু রোগী ঢাকায় চিকিৎসা গ্রহণ করে। সে কারণে ঢাকাতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি পরিলক্ষিত হয়।’