অভিশংসনের মুখোমুখি দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট, তদন্ত হচ্ছে রাষ্ট্রদ্রোহিতার

অভিশংসনের মুখোমুখি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। এছাড়া সামরিক আইন প্রয়োগের ব্যর্থ চেষ্টার দায়ে ইউন ও তার শীর্ষ মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ। এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা শনিবার (৭ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইয়ুনকে অভিশংসনের জন্য পার্লামেন্টে ভোটাভুটির আয়োজন করবেন বলে দলের এক মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করতে সামরিক আইন ঘোষণা করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। এতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ এবং দেশটির আন্তর্জাতিক মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা কিম সিউং-উন এর আগে জাতীয় সংসদে বলেন, ‘ইয়ুন সুক ইওল সরকারের জরুরি সামরিক আইন ঘোষণা আমাদের জনগণের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও ভীতির সৃষ্টি করেছে।’

ইয়ুনের ক্ষমতাসীন পিপলস পাওয়ার পার্টি এই সংকটে দ্বিধাবিভক্ত হলেও তারা অভিশংসনের বিরোধিতা করবে বলে জানিয়েছে।

৩০০ আসনের পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিলটি পাস করতে ক্ষমতাসীন দলের ১০৮ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে অন্তত আটজনের সমর্থন প্রয়োজন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির।

এরইমধ্যে যিনি এই পদক্ষেপের সুপারিশ করেছিলেন সেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন পদত্যাগ করেছেন। নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের লড়াইয়ে ইয়ুন বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সৌদি আরবে নিযুক্ত তার রাষ্ট্রদূত চোই বিয়ুং-হিউককে মনোনীত করেন।

সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার কিম ইউনকে সামরিক আইন জারির সুপারিশ করেছিলেন। কিম পার্লামেন্টে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম সিওন-হো।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাপ্রধানও পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ।

এদিকে পুলিশপ্রধান জানিয়েছেন, সামরিক আইন ঘোষণার বিষয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং অন্যান্য সম্পর্কিত অপরাধের অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে। এতে অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন- প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল, তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রসিকিউশন এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত অফিসও অভিযোগ পেয়েছে এবং তদন্তের কথা বিবেচনা করছে।

ওয়াইটিএন জানিয়েছে, তদন্ত যতক্ষণ এগোচ্ছে ততক্ষণ সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।