দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর কোনও হামলা হলে সঠিক তথ্য সংগ্রহে ধর্মীয় নেতাদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, তথ্য সরবরাহকারীরা যাতে সমস্যায় না পড়েন সেজন্য কিভাবে নিরাপদে তথ্য সংগ্রহ করা যায় তা জানতে আমি আজকের সংলাপে আসার আহ্বান জানিয়েছি।
আজ বৃহস্পতিবার দেশের ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
জুলাই বিপ্লবের পর ৮ আগস্ট বিদেশ থেকে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছে ড. ইউনূস বলেছিলেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা সবাই একটি পরিবার এবং আমরা একই পরিবারের সদস্য। আমরা একে অপরের শত্রু নই। আমরা সবাই বাংলাদেশি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যখন শপথ গ্রহণ করলাম, শুনলাম যে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার চলছে। এর পরই আমি খোঁজ নিই এবং ঢাকেশ্বরী মন্দিরে চলে যাই। সেখানে আমাকে কিছু দাবিদাওয়া দেওয়া হলো। তবে একটি দাবি হচ্ছে, আমাদের সবার সমান অধিকার। বলার অধিকার, ধর্মের অধিকার ও কাজকর্মের অধিকার। সেগুলো আসবে সংবিধান থেকে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেগুলো নিশ্চিত করা।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয় এবং সর্বস্তরের মানুষ এতে যোগ দিয়ে দুর্গাপূজাকে জাতীয় উৎসবে পরিণত করে।
এখন সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়টি আবারও উঠে এসেছে এবং বিদেশি গণমাধ্যম এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, বাস্তবতা ও বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মধ্যে তথ্যের ফারাক রয়েছে। দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কোনো ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে এ ধরনের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা এ ধরনের ঘটনা রোধে একটি পরিবেশ সৃষ্টির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক প্রতিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আরো বলেন, আমার মনে হয় আমি যা বলেছি, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ তাতে একমত।
সংলাপে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা যোগ দেন।