জীবনের গূঢ় শিক্ষা লুকিয়ে থাকে সমাজে প্রচলিত সহজ কিছু কথা বা প্রবাদ-প্রবচনের মধ্যে। তেমনই একটি কথা হলো, ‘Look before yoy leap’ অর্থাৎ, লাফ দেওয়ার আগে দেখো! এমন আরও কয়েকটি কাজ আছে, যা করা উচিত। এগুলোই জীবনে চলার পথকে মসৃণ করে। লিখেছেন এনাম-উজ-জামান
বলার আগে শোন
‘আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল, শুধাইলো না কেহ’ এ খেদ শুধু কবির নয়, যুগ যুগ ধরে প্রতিটি মানুষের। মানুষ শুধু নিজের কথা বলতে চায়। সে অপরের বক্তব্য শুনতে আগ্রহী না। কিন্তু তুমি যদি অন্যের কথা না শোন তাহলে অন্যেই বা তোমার কথা শুনবে কেন? তা ছাড়া ওই ব্যক্তি যা বলতে চাচ্ছেন এমনও হতে পারে যে, তা তোমারই মনের কথা। দুজনে যদি একমতই হও তাহলে কেন বলা নিয়ে এই বাদানুবাদ? তা ছাড়া অপর ব্যক্তির কথা না শুনলে তো তার যুক্তি খণ্ডনও করা যায় না। তাই যেকোনো কথোপকথনে সামনের ব্যক্তির কথা শোনার অভ্যাস করো।
ব্যয় করার আগে আয় করো
ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘Cut your coat according to your cloth’ অর্থাৎ আয় বুঝে ব্যয় করো। নিজের সংহতি বুঝে ব্যয় করলে সেই ব্যক্তি কখনো অর্থাভাবে পড়বে না। এই যে, আয় বুঝে ব্যয় করা একেই মিতব্যয়িতা বলে। আয় বুঝে ব্যয় করার জন্য সবার আগে যেটি প্রয়োজন তা হলো, আয় করা। যিনি আয় করেন না তিনি কীভাবে আয় বুঝে ব্যয় করবেন? এই আপ্তবাক্য আমাদের স্বাবলম্বী হওয়ার তাগিদ দেয়। ব্যয় করার আগে আয় করার অভ্যাস আমাদের আত্মসম্মানবোধের জন্যও অতিপ্রয়োজনীয়। এটি আমাদের পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দেয়।
লেখার আগে চিন্তা করো
লিখিত বাণীর শক্তি অনেক। আর সে কারণেই ব্যবসা-বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি, সম্পত্তির বণ্টন ব্যবস্থা প্রভৃতি লিখিত চুক্তি আকারে প্রকাশ করা হয়। লিখিত বক্তব্য দলিল আকারে আদালতে ও বিচার-সালিশে ব্যবহৃত হয়। কোনো একটি কথা হঠাৎ বলে ফেললে সেটি ‘কথার কথা’ বলা লঘু করে ফেলা গেলেও লিখিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ কম। তাই কোনো বক্তব্য লিখিত আকারে প্রকাশের আগে সে বিষয়ে সবদিক চিন্তা করেই লেখা উচিত। তাহলে পরবর্তী জটিলতা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব হবে।
হাল ছাড়ার আগে সর্বোচ্চ চেষ্টা করো
জীবনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। নানা বাধাবিপত্তি অতিক্রমের জন্য সবসময় মানুষকে সংগ্রামরত থাকতে হয়। অনেকেই একটু চেষ্টা করেই হাল ছেড়ে দেন। সফলতা তাদের কাছে অধরাই থেকে যায়। হয়তো, তিনি সাফল্য থেকে সামান্যই দূরে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু সর্বোচ্চ চেষ্টা না করাই তার সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো। তা ছাড়া অনেক চেষ্টা করলেও যেমন ফল পাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়, তেমনি কোনো কাজে সফল হওয়ারও একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। হাল ছেড়ে না দিয়ে সে সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরাও সফলতা লাভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।