২০২৫ সালে নতুন রূপে আয়োজিত হতে যাওয়া ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই প্রতিযোগিতায় ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর পাশাপাশি দেখা যাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সেরা ক্লাবগুলোকেও। তবে আর্থিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি।
বর্তমান ক্লাব বিশ্বকাপে প্রাইজমানির যে হিসাব, তা এক লাফে বেড়ে অবিশ্বাস্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৩ সালে ক্লাব বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ছিল মাত্র ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। কিন্তু ২০২৫ সালের জন্য এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৫ কোটি ডলার।
স্প্যানিশ দৈনিক এএস জানিয়েছে, ৩২ দলের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্লাব পাবে ৫ কোটি ডলার। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১০ কোটি ডলার। অতীতে যেখানে বিজয়ী দল পেত মাত্র ৫০ লাখ ডলার, সেখানে এই পরিবর্তন বিশাল। এমনকি কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, অংশগ্রহণ ফি শেষ পর্যন্ত ৮ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
টুর্নামেন্টের আর্থিক সুবিধার বড় অংশটাই ভোগ করবে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাইজমানির ৭০ শতাংশই যাবে রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি, বায়ার্ন মিউনিখ, পিএসজি, চেলসি, জুভেন্টাসের মতো ক্লাবগুলোর হাতে। ক্লাব ফুটবলে এই ক্লাবগুলোর জনপ্রিয়তা এবং টিভি স্বত্ব থেকে আয় করার ক্ষমতাই তাদের এমন সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
টুর্নামেন্ট সামনে রেখে ফিফার লক্ষ্য ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ফান্ড সংগ্রহ করা। যদিও অ্যাপলের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায়, অর্থের একটি বড় উৎস হারিয়েছে ফিফা। বর্তমানে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এই অর্থের জোগান দিতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রাইজমানি ২০২৩ সালের ২১৯ কোটি ডলার থেকে ২০২৪ সালে বেড়ে ২৭১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ফিফার এই বড়সড় ঘোষণা উয়েফাসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতার ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
বিশাল প্রাইজমানি ক্লাব মালিকদের আগ্রহ বাড়ালেও, সমালোচনার মুখেও পড়েছে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। বিশেষ করে, খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং সূচির জটিলতার কারণে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তবে ফিফার দাবি, এই টুর্নামেন্ট ছোট ক্লাবগুলোকেও আর্থিক সুবিধা দিয়ে বৈশ্বিক ফুটবলে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করবে।
নতুন আঙ্গিকে আয়োজিত এই ক্লাব বিশ্বকাপ ক্লাব ফুটবলের অর্থনীতি এবং দর্শকপ্রিয়তায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।