ট্রাম্পের হুমকিতেও অটল ব্রিকস

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ব্রিকস সেটেলমেন্ট সিস্টেম বা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা সামনে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন রাশিয়া। গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ এ খবর নিশ্চিত করেছে। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার প্যানকিনকে উদ্ধৃত করে আরআইএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের হুমকি ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে নিজস্ব নিষ্পত্তি ব্যবস্থা প্রণয়নের কাজ বন্ধ করাতে পারবে না।

এ বিষয়ে প্যানকিন বলেন, ব্রিকস কোনো নতুন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তৈরির চেষ্টা করছে না। বরং তারা প্রকৃতপক্ষে একটি নতুন মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থার গঠনের দিকে কাজ করছে। পরিকল্পিত এই সেটেলমেন্ট সিস্টেম তৈরির প্রক্রিয়া কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অবশ্যই এ কাজ চলতে থাকবে।

গত ৩০ নভেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিকসের সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, নতুন মুদ্রা ব্যবস্থা তৈরি কিংবা ডলারের বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো মুদ্রা প্রতিস্থাপনের বিষয়টি সমর্থন করলে সেসব দেশের ওপর শতভাগ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত অর্থনীতি থেকে বিদায় নিয়ে তারা যেন অন্য কাউকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এরই মধ্যে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে তিনি যেকোনো আমদানি পণ্যের ওপর ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবেন। আর চীনের পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার হবে অন্তত ৬০।

২০০৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয় বিকাশমান পাঁচ অর্থনীতির দেশের জোট ব্রিকসের। এই জোটের মূল সদস্য দেশÑ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। চলতি বছর নতুন করে সৌদি আরব, ইরান, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইথিওপিয়া এ জোটের সদস্য হয়েছে। চলতি বছর অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানো এবং স্থানীয় মুদ্রাকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে ব্রিকস ক্রস বর্ডার পেমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা নিশ্চিত করা নিয়ে একটি যৌথ ঘোষণা গৃহীত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধÑ পরবর্তী বিশ্বে ডলার হলো প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা। বলা হয়, বিশ্ব বাণিজ্যের ৮০ শতাংশের বেশি ডলারে লেনদেন হয়। ব্রিকসের বেশ কয়েকটি সদস্যদেশ বিশ্ববাণিজ্যে ডলারের এই আধিপত্য কমানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে চীন তার মুদ্রা ইউয়ানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যতম প্রধান মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার মতো ক্ষমতাশালী দেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের পরিবর্তে ইউয়ান ব্যবহার বাড়িয়েছে। আরেক সদস্য দেশ ভারতও চায় তার মুদ্রা রুপি আরও বেশি করে বিশ্ব বাণিজ্যে ব্যবহার করা হোক।