ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডকে নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রায় ১০০ কূটনীতিক, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তারা তুলসীকে নিয়ে সিনেটে রুদ্ধদ্বার বৈঠক আয়োজনের আহ্বানও জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলেছে, এক খোলা চিঠিতে কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা তাদের উদ্বেগ জানিয়ে তুলসী গ্যাবার্ডের অভিজ্ঞতার ঘাটতি, তার বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মতো স্বৈরশাসকদের প্রতি সহানুভূতি থাকার অভিযোগ করেন। তুলসীকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা পরিচালক পদে মনোনয়ন দিয়েছেন দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ মনোনয়নের পর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ট্রাম্পের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক পদে তুলসীর মনোনয়ন নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তার অতীত কার্যক্রম বলছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস ও সমগ্র জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে নিরপেক্ষ গোয়েন্দা ব্রিফিং করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এই ১০০ জন সাবেক কূটনীতিক ও গোয়েন্দা গত বুধবার ডেমোক্র্যাটিক নিয়ন্ত্রিত সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা চাক শুমার এবং আসন্ন রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনকে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে তারা ট্রাম্পের শীর্ষ নিয়োগগুলো পর্যালোচনার জন্য গোপনে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন্ডি শেরম্যান, সাবেক ন্যাটো উপমহাসচিব রোজ গটেমোয়েলার, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অ্যান্টনি লেক এবং বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা। এ চিঠির বিষয়ে ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিমের একজন মুখপাত্র, রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আহ্বানকে ভিত্তিহীন এবং দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দেন।
উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা আলাপ-আলোচনা সম্পর্কে অবগত আছেন, এমন একজন দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, এ অঞ্চলের অন্য নেতাদের সঙ্গে তুলসীর যোগাযোগ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর উদ্বেগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, তুলসী গ্যাবার্ড একসময় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদস্য। রাজনীতি করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে। পরে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন। ৫ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর তুলসীকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দায়িত্ব পেলে তুলসী গ্যাবার্ড সবার জন্য ‘গর্ব’ করার মতো মানুষ হয়ে উঠবেন বলে সম্প্রতি উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এখন তুলসীর সামনে সিনেটে অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষা। সিনেটের সমর্থন পেয়ে উতরে গেলে তিনি নিশ্চিতভাবে গোয়েন্দা পরিচালকের দায়িত্ব বুঝে পাবেন।