সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সব ধরনের পাপ, অকল্যাণ ও গর্হিত কাজ থেকে সতর্ক করেছেন, যেন আমরা সেসব অকল্যাণে পতিত না হই এবং মহান আল্লাহর ক্রোধ থেকে বেঁচে থাকতে পারি। এমনই এক গর্হিত কাজ হলো ইসলামপূর্ব যুগের কুসংস্কারে লিপ্ত হওয়া। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তিন ব্যক্তি মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত। এক. যে ব্যক্তি হারাম শরিফে অন্যায় ও অপকর্মে লিপ্ত হয়। দুই. যে ব্যক্তি ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগের রেওয়াজ-প্রথার অনুসরণ করে। তিন. যে ব্যক্তি বিনা অপরাধে কেবল খুনখারাবির উদ্দেশে কোনো মুসলমানের রক্তপাত কামনা করে।’ (সহিহ বুখারি)
কুসংস্কার ও কুপ্রথার অনুসরণ করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর কোনো কোনোটির বিশ্বাস মানুষকে কুফর পর্যন্ত নিয়ে যায়। তাই এসব থেকে পূর্ণাঙ্গরূপে বেঁচে থাকতে হবে। সাহাবায়ে কেরাম হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ অনুযায়ী এসব কুসংস্কার থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকতেন। দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে মিসরের মানুষরা জাহেলি যুগের কুসংস্কারমূলক একটি ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিল। প্রাচীন মিসরের নীলনদ মাঝেমধ্যে শুকিয়ে যেত। বন্ধ হয়ে যেত এর পানিপ্রবাহ। মিসরের অধিবাসীরা জাহেলিয়াতের প্রথা অনুযায়ী তখন একটা সুন্দরী কুমারী মেয়েকে নদীতে বলি দিত। ফলে পুনরায় নীলনদে জোয়ার আসত।
দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে মিসর ইসলামি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু সেখানকার গভর্নর নিযুক্ত হন। সেই সময়েও একবার নীলনদের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। রীতি অনুযায়ী লোকেরা কুমারী মেয়ে বলিদানের জন্য আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে অনুমতি চাইলে তিনি বলেন, এটা শরিয়তবিরোধী প্রথা। এমনটা করা যাবে না। আমি বরং এ ব্যাপারে খলিফার সঙ্গে পরামর্শ করি। অতঃপর খলিফার কাছে পরামর্শ চেয়ে পত্র পাঠানো হয়। তিনি জবাবে দুটি চিঠি পাঠান। একটি গভর্নর আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে। অপরটি নীল দরিয়ার উদ্দেশে। গভর্নরকে আদেশ করেন, তিনি যেন চিঠিটা নীলনদে নিক্ষেপ করেন।
চিঠিতে লেখা ছিল, ‘আল্লাহর বান্দা ওমরের পক্ষ থেকে মিসরের নীলনদের প্রতি। হামদ ও সালাতের পর, হে নীলনদ! তুমি যদি নিজের পক্ষ থেকে প্রবাহিত হও, তাহলে প্রবাহিত হয়ো না। তোমার কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই। আর যদি এক আল্লাহর হুকুমে প্রবাহিত হও, তাহলে আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, তিনি যেন তোমাকে প্রবাহিত করে দেন।’
হজরত আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু নীলনদের তীরে গিয়ে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পত্রটি নদে নিক্ষেপ করেন। পরদিন ছিল শনিবার। প্রবাহিত হতে শুরু করে নীলনদ। সকালে মিসরবাসী অবাক নয়নে দেখেন, মহান আল্লাহ এক রাতে নীলনদের পানিকে ১৬ গজ উচ্চতায় প্রবাহিত করে দিয়েছেন। ঝলমলে পানিতে ভরে ওঠে নীলনদ। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এক মিনিটের জন্যও শুকায়নি নীলনদ। (আল বিদায় ওয়ান নিহায়া)