বিল থেকে ডিস ও ইন্টারনেট সংযোগ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার 

কুমিল্লা দেবিদ্বারে একটি বিল থেকে ডিস ও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া দুই কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৮ ডিসেম্বর) উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকার দোয়াইজলা নামের বিলে থেকে ওই দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ গ্রামের প্রয়াত দুলু মিয়ার ছেলে মনির হোসেন (৩০) ও খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সুখাকেন্দ্রায় গ্রামের রহুল আমিন মিয়ার ছেলে মোহন মিয়া (৩৫)। তারা ইন্টারনেট ও ডিস বিল তোলা, সংযোগ ও মেরামতের কাজ করতেন।

পুলিশ প্রশাসন বলছেন, দুই যুবকের মরদেহে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে মরদের পাশে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। এ জন্য তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হতে পারছেন না, তারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে মারা গেছেন।

এ বিষয়ে মনিরের ছোট বোন জান্নাত আক্তার বলেন, ১১টার দিকে আমরা খবর পাই মিনরের মরদেহ বিলে পাওয়া গেছে। মনির আমার একমাত্র ভাই। তাকে কারা মারল, আমরা বলতে পারব না। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবার নিয়ে কই যাবো। ছেলে মেয়ের কি হবে। 

স্থানীয় জাফরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, দোয়াইজলা বিলে কৃষকেরা কাজ করতে এসে দুজনের মরদেহ দেখে আমাকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তা দেখে পুলিশে খবর দিই। তারা দুজনই ডিস ও ইন্টারনেট বিলে উত্তোলন ও সংযোগ দেওয়ার কাজ করতেন। এটি হত্যাকাণ্ড কি না, এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ডিস ও ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানের মালিক বদিলউল আলম বলেন, মনির নিজের বাড়িতে থাকতেন। আর মোহন অফিসে থাকতেন। মোহনের বাবা আমাকে বলেছেন, রাত ১১টার দিকে শেষবার মোহনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ১১টার পর তাকে অফিসেও পাওয়া যায়নি। কীভাবে মারা গেছে আমার জানা নেই। তবে এ মৃত্যুর সঠিক কারণ বাহির করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। 

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি তদন্ত মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রস্তুতি চলছে। 

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (দেবিদ্বার সার্কেল) মো. শাহিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই দুই যুবককের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কিছু, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ, তাদের শরীরে আঘাতের তেমন কোনো চিহ্ন নেই। মরদেহগুলোর পাশে নেশা সেবনের কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও আমরা অন্যান্য মামলার মতোই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তেও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।