লালমনিরহাটে বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের দুপক্ষের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শ্রমিক, দুই সাংবাদিক, এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে সদর থানা পুলিশের এসআই রাশেদ হোসেন, ডেইলি বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, আজকের দর্পণ পত্রিকার সাংবাদিক এসআর শরিফুল ইসলাম রতনসহ ৮-৯ জন শ্রমিক আহত হন। আহত শ্রমিকদের নাম জানা যায়নি।
শ্রমিকরা জানান, লালমনিরহাট জেলা বাস-মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব নিয়ে দুপক্ষের সৃষ্টি হয়। একটি পক্ষ সংগঠনের পুরনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর (২৪৯৩) বহাল রাখার দাবি এবং বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগ ও আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি ওমর ফারুক বাবলু। অন্য পক্ষে শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেন চালক মাহফুজার, বকুল ও তাদের সহযোগীরা।
শ্রমিক নেতা বাবলুর ভাষ্য মতে, ৫ আগস্টে স্বৈরাচার সরকার পতনের পর থেকেই মাহফুজার, বকুলসহ বেশ কিছু শ্রমিক আওয়ামী দোসরদের নিয়ে শ্রম আইন লঙ্ঘন করে দ্বৈত শ্রমিক ও বহিরাগতদের নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার প্রক্রিয়া চালান। এর প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল রবিবার সাধারণ নিবন্ধিত শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। বাবলু বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলটি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় মানববন্ধনের জন্য পৌঁছালে বাস টার্মিনালে আগে থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী অবস্থান নিয়ে থাকা মাহফুজার, বকুল ড্রাইভার গং আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
তবে ইটপাটকেল ছুড়ে শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে অন্যপক্ষ। তাদের দাবি, বাবলুর নেতৃত্বে মিছিল থেকেই বাস টার্মিনালে থাকা শ্রমিকদের ওপর ঢিল ছোড়া হয়। এতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বাস টার্মিনালে থাকা শ্রমিকরা নতুন করে শ্রমিক ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করছিলেন বলেও জানান তারা।
আহত সাংবাদিক এসআর শরিফুল ইসলাম রতন বলেন, শ্রমিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় আমাকে ও ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নার ওপর হামলা চালায় একটি পক্ষ। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করার বিষয়টি নিয়ে ভিডিও দেখে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি আবদুল কাদের বলেন, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রমিকদের একটি গ্রুপ প্রতিবাদ মিছিল ও একটি পক্ষ সমাবেশ করছিল। উভয় পক্ষই বাস টার্মিনাল এলাকায় মুখোমুখি হলে প্রথমে ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা ও পরে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।