জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতার পালাবদলের পর করা বিভিন্ন মামলায় অসংখ্য লোককে আসামি করে এখন নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে বাদী চাঁদাবাজি করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এস এম সাজ্জাত আলী। এমন মামলার বাদীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির পাল্টা মামলার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। গতকাল রবিবার নিজ কার্যালয়ে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান রাজধানীর পুলিশ প্রধান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ভুয়া মামলা হয়েছে, গায়েবি মামলা হয়েছে, মামলার আসামি দুইশ-তিনশ। নতুন করে যেটা শুরু হয়েছে, সেটা হলো বাদীরা প্রত্যেকের কাছ থেকে টাকা চাইছে। টাকা দাও, নাম কেটে দেব বা মামলা উঠায় নেব। কিন্তু আইনগতভাবে বাদীর মামলা উঠানোর কোনো এখতিয়ার নেই। পুলিশেরও মামলা উঠানোর কোনো ক্ষমতা নেই। এটার ক্ষমতা আছে শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’
মামলা বাণিজ্য যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে সাজ্জাত আলী বলেন, ‘বাদী যে আসামিদের কাছে যাচ্ছে এবং টাকা দাবি করছে চাঁদাবাজির মতো, আমি ওসিকে বলেছি বাদীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে দিতে। চাঁদাবাজির মামলা দিতে।’
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে এত লোককে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। এক নম্বর আসামি শেখ হাসিনা, তারপর ৫-৭ জনকে রেখে, এরপর খোঁজখবর নিয়ে যার কাছে টাকা আছে, তাকেই আসামি করছে। এখন বাদী টাকা নিতেছে। আমি বলেছি বাদীদের বিরুদ্ধে মামলা করা শুরু করেন। আমরা এগুলো শক্তভাবে দেখছি। জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে দুইশ-আড়াইশ লোককে আসামি করে মামলা হয়েছে, এখন চাঁদাবাজি হচ্ছে, এ বিষয়ে আমরা আইনগতভাবে দেখছি। মামলা ঠিক আছে, মামলা নষ্ট হবে না। অন্যভাবে মামলা দাঁড় করানো হবে।’
টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘মামলাগুলোতে যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা জড়িত নয় তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।’
সভায় ক্র্যাব সভাপতি কামরুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।