‘মুক্তি পেয়ে বিদ্রোহীদের চুমু খেতে চেয়েছি’

‘বিশ্বাস করতে পারছি না আমরা সত্যিই মুক্ত’।  সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের বিজয়ের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের আমলে গ্রেপ্তার হওয়া একজন বলছিলেন এই কথা। হালা নামের ওই ব্যক্তি ২০১৯ সালে হামার এক চেকপোস্ট থেকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। কারাগারে তার পরিচয় ছিল একটি নম্বর (১১০০)।

২৯ নভেম্বর মুক্তি পেয়ে কারাগারের দুঃসহ স্মৃতি তুলে ধরেন হালা। আলেপ্পোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছে বিদ্রোহীরা তাকে ও অন্যদের মুক্তি দেয়। হালা বলেন, ‘আমরা উল্লাস করেছি। তাদের (বিদ্রোহীদের) জড়িয়ে ধরতে ও চুমু খেতে চাইছিলাম। পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সময় মনে হচ্ছিল আমি যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছি।’

সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের বিজয়ের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশারের ‘আয়নাঘর’ থেকে মুক্তি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি বন্দী। বাশারের শাসনামলে কারাগারগুলো নির্মম নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক ছিল বলে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস।

অপর এক বন্দী সাফি আল-ইয়াসিন (৪৯) আলেপ্পোর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বলেন, ‘এটি যেন আমার জীবনের প্রথম দিন।’ সাফি ২০১১ সালে সিরিয়ার বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩১ বছরের সাজা পেয়েছিলেন এবং ১৪ বছর ধরে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বাশারের কারাগারগুলোতে বন্দীদের ব্যাপক নির্যাতন, অনাহার, এবং শারীরিক-মানসিক অত্যাচারের প্রমাণ রয়েছে। সাইদিনায়ার কুখ্যাত কারাগারকে ‘মানব কসাইখানা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

বাশার আল আসাদের পতনের মধ্য দিয়ে সিরিয়া একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের দুঃসহ অভিজ্ঞতা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে এবং বাশারের শাসনের নির্মম বাস্তবতা সামনে এনেছে।