সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:১৪ পিএম

সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন মোহাম্মদ আল–বশির। আজ মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল–আসাদ–পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। 

সিরিয়ার টেলিভিশনে দেওয়া এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ এ সরকারসহ সিরিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। 

এএফপি জানিয়েছে, আগে থেকেই সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশ ছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল–শামসের (এইচটিএস) নিয়ন্ত্রণে। সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্ট এদেরই সরকার। সর্বশেষ সোমবার বাশার সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল–জালালি ও আল–বশিরের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর আল–জালালি জানান, তিনি সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্টের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি। 

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইদলিবভিত্তিক স্যালভেশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আল-বশির। ইদলিবে স্যালভেশন গভর্নমেন্টের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে আল-বশির প্রথমে সরকারের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামি শিক্ষার পরিচালক হিসেবে এবং পরে ২০২২-২৩ পর্যন্ত উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

গত নভেম্বরের উত্তর-পশ্চিম সিরিয়া আক্রমণে নেতৃত্ব দেন বশির, যা আলেপ্পোর দখলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মোহাম্মদ আল-বশির ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে ইদলিব প্রদেশের জাবাল জাওয়িয়া অঞ্চলের মাশাউন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৭ সালে আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২১ সালে ইদলিব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরিয়া ও আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন।

২০১১ সালে সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমন করা শুরু করে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকার। এরপর শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। এতে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

একের পর এক শহর দখলের পর গত ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার দুই যুগের প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতন ঘটায় দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল শাম। দামেস্ক থেকে পালিয়ে পরিবারসহ রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন স্বৈরশাসক বাশার। তিনি মস্কোয় পালিয়ে যাওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট প্যালেসে ঢুকে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে সিরিয়ার সাধারণ মানুষ। বাশারের বাবা হাফিজ আল-আসাদের মূর্তিও ভেঙে ফেলে তারা। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত