কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের ওপর হামলাকে গোয়েন্দা ব্যর্থতা বললেন হাসনাত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ওপর একের পর এক আক্রমণকে কমপ্লিট ফেইলিওর অব ইন্টেলিজেন্স (পরিপূর্ণ গোয়েন্দা ব্যর্থতা) বলে দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

হাসনাত বলেন, আমাদের ওপর যে হামলা হচ্ছে, তাতে আমরা ভীত নই। কেউ যদি মনে করে থাকে যে হাসনাত-সারজিস থেকে শুরু করে আসিফ-নাহিদ সবাইকে মেরে ফেলবে, লক্ষ হাসনাত-লক্ষ সারজিস-আসিফ-নাহিদ রাস্তায় দাঁড়াবে। বুলেটকে জয় করা তরুণ প্রজন্মকে আপনারা ভয় পান। আমাদের ওপর যত আক্রমণ হবে, তত দ্বিগুণ শক্তিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হব।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব আরিফ সোহেলসহ নেতাদের গাড়িতে হামলা–ভাঙচুরের প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবিতে’ এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের ওপর যে হামলা হচ্ছে, তাতে আমরা ভীত নই। আমাদের ওপর যত আক্রমণ হবে, তত দ্বিগুণ শক্তিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হব। আমাদের ওপর আক্রমণগুলোকে আমরা কমপ্লিট ফেইলিওর অব ইন্টেলিজেন্স (পরিপূর্ণ গোয়েন্দা ব্যর্থতা) হিসেবে দেখছি। এই ফেইলিওর অব ইন্টেলিজেন্স এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানান তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অতীতে বিএনপি, জামায়াত-শিবির, ছাত্রদল কোনো কর্মসূচি দিলে সাইন ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করলেও তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হতো। তাদের বাসায় শান্তিতে থাকতে দেওয়া হতো না। কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের দোসর জঙ্গিরা সদর্পে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, মামলাবাণিজ্য করছে, জনসমক্ষে আসছে। তাদের দমন ও বিচারের সম্মুখীন করার জন্য আমরা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। প্রশাসন ও ইন্টেলিজেন্স উইং যদি মনে করে থাকে তাদের এই নির্লিপ্ত ভূমিকাকে আমরা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেব, এই বিপ্লবী শক্তি স্তিমিত হয়ে গেছে, তাহলে তারা ভুল ভাবছে। খুনি হাসিনাকে আমরা ভয় পাইনি। যদি মনে করে থাকেন আপনারা নির্লিপ্ত থাকবেন, তাহলে আমরা হাসিনার মতো আপনাদের বিকল্প খুঁজে নিতে দুইবার ভাবব না। দায়িত্বশীল নিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর ও সহযোগীদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসুন।

প্রশাসনিক সংস্কার দাবি করে হাসনাত বলেন, গত ১৬ বছর ধরে আমাদের প্রশাসনের মাঠকাঠামো থেকে সচিবালয়ের সর্বোচ্চ কাঠামো পর্যন্ত প্রশাসনের পদে পদে স্বৈরাচারের দোসর ও সুবিধাভোগীরা আখড়া বানিয়ে বসেছে। শুধু হাসিনার পতন হয়েছে, কিন্তু তার মুরিদরা ক্ষমতাকাঠামোর স্তরে স্তরে অবস্থান করছে। গণমাধ্যমেও তাদের অবস্থান রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হবে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের দালাল ও পৃষ্ঠপোষকদের চাকরিচ্যুত করে নতুন নিয়োগের সার্কুলারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বিপক্ষের শক্তির মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম করে আমাদের প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, চোখে চোখ রেখে- এমন মন্তব্য করে ভারতের উদ্দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ভারত বর্তমানে জঙ্গিবাদের একটি আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। ভারত হাউজ অব টেরর, হাউজ অব মাফিয়া হিসেবে পরিচিত হচ্ছে। বাংলাদেশে যাদের জঙ্গি হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডার প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়, ভারত তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, তাদের বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করছে। ভারত যদি জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়, পৃষ্ঠপোষকতা, অর্থায়ন এবং কূটনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে, তাহলে ভারতের সঙ্গে আমাদের পরবর্তী সম্পর্কটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সুতরাং, ভারতের রাষ্ট্রকাঠামোকে আমরা বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করব কি না, সেই প্রশ্ন করার সময় এসেছে। ভারতের উচিত, জঙ্গিদের সহযোগিতা না করে জনগণের সিদ্ধান্তে গঠিত গণঅভ্যুত্থানের সরকার ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দেওয়া।

ভারত সবসময় একটা সংখ্যালঘু কার্ড খেলার মাধ্যমে বাংলাদেশে এক ধরনের সাম্প্রদায়িক উগ্রতার বিষবাষ্প অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করে হাসনাত আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে তারাই সংখ্যালঘু, যারা বাংলাদেশের বিপক্ষের শক্তি। বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে অবস্থানকারীরা এই দেশে সংখ্যালঘু। যারা পাহাড়ে বসবাস করেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-কেউ এই দেশে সংখ্যালঘু নন। বাংলাদেশবিরোধীরাই এখানে সংখ্যালঘু। আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অব্যাহত থাকবে। দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্রকে আমরা ছাত্র-নাগরিক ও সিপাহীরা রুখে দেব।