গাইবান্ধা সদর উপজেলায় সুপারি চুরির অভিযোগে আটক হওয়া হোসেন মিয়া নামের এক প্রতিবন্ধী কিশোরকে মারধর করা হয়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আটক রাখার পর হোসেনকে ‘ভালো হওয়ার শর্তে’ বাবার কাছে তাকে তুলে দেন ইউপি সদস্য আহসান হাবীব। ভুক্তভোগী কিশোর হোসেন মিয়া (১৫) খোলাহাটি ইউনিয়নের রথবাজার মাঝিপাড়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে।
ঘটনার সময় স্থানীয়দের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হোসেনের দুই হাত মোটা রশি দিয়ে লোহার রডের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। ঘটনা দেখতে সেখানে ভিড় করেন নারী-পুরুষরা। গ্রিলের ফাঁক দিয়ে হোসেনকে মারধর করতে দেখা যায় এক যুবককে। এ সময় হোসেনকে হাতের রশি খোলার চেষ্টাসহ চিৎকার করতে শোনা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হোসেনের চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ তারা। প্রায়ই হোসেন মানুষের বাড়ির জিনিসপত্র চুরি করে। রবিবার সন্ধ্যায় খোলাহাটি গ্রামের একটি বাড়ির সুপারি গাছে উঠে হোসেন। স্থানীয়রা টের পেলে সে দ্রুত গাছ থেকে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। ধাওয়া দিয়ে আটকের পর ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে ভবনের গ্রিলের সঙ্গে হোসেনের দুই হাত রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। পরে পরিবারের লোকজন ডেকে তাদের হাতে হোসেনকে তুলে দেন ইউপি সদস্য আহসান হাবীব।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খোলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আহসান হাবীব মোবাইল ফোনে বলেন, ‘হোসেন শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তার চুরির কারণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। মূলত তাকে শাসন করার জন্য পরিষদে নিয়ে এসে হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল। তবে তাকে মারধর করা হয়নি। পরিবারের অনুরোধে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়নি। ভালো করার শর্ত দিয়ে হোসেনকে তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
তবে চুরির অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে প্রতিবন্ধী কিশোরকে বেঁধে রাখার ঘটনাটি জানা নেই খোলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুম হক্কানির। তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, হোসেনকে আটক কিংবা পরিষদে নিয়ে আসার ঘটনাটি কেউ তাকে জানায়নি। ঘটনাটি ওই ওয়ার্ডের মেম্বারের জানা থাকতে পারে।